৭ নভেম্বর আমাদেরকে শিখিয়েছে এদেশের মানুষ কোন বিদেশি শক্তির আধিপত্য কিংবা অভ্যন্তরীণ কোন ফ্যাসিবাদী এর কাছে কোন কর্তৃত্ববাদের কাছে মাথা নত করবে না বলে মন্তব্য করেছেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম। শনিবার ( ৭ নভেম্বর) দুপুরে রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তেনে ৭ নভেম্বর উপলেক্ষে জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম একথা বলেন।
ডিসি ইসরাত জাহানের সভাপতিত্বে এসময় আরও বক্তব্য রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক, অতিরিক্ত ডিআইজি জাহাঙ্গীর হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার নরেশ চাকমা, জজ আদালতের পিপি আফতাব হোসেন, বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুস ছাত্তার। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষক বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্বপরিবারে ষড়যন্ত্রকারীরা সেনানিবাসে বন্দি করে। সেই অনিশ্চয়তার মুহূর্তে এদেশের বীর সিপাহী এবং সর্বস্তরের জনসাধারণ রাজপথে নেমে আসে এবং স্বতঃস্ফূর্ত সংহতির মাধ্যমে বন্দি দশা থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করে এবং সেই বিপ্লবের মাধ্যমে রক্ষা পেয়েছিল আমাদের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব।’
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘ ৭ই নভেম্বরের ফলাফল সুদূরপ্রসারী, এই অভ্যুত্থান কেবল একজন মহান নেতাকে মুক্ত করেনি বরং বাংলাদেশকে একদলীয় স্বৈরশাসনের অন্ধকার গহ্বর থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের আলোয় ফিরিয়ে এনেছিল। ৭ই নভেম্বর হলো জাতীয় ঐক্য ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার চিরন্তন প্রতীক। এটি আমাদেরকে শিখিয়েছে এদেশের মানুষ কোন বিদেশি শক্তির আধিপত্য কিংবা অভ্যন্তরীণ কোন ফ্যাসিবাদী এর কাছে কোন কর্তৃত্ববাদের কাছে মাথা নত করবে না। এদেশের মানুষ এবং ছাত্র সমাজ যখনই একতাবদ্ধ হয়েছে তখনই অপশক্তি স্বৈরাচার কর্তৃত্ববাদ পরাজিত হয়েছে। এই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আমাদের ভবিষ্যতের করণীয় ঠিক করতে হবে। “
এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষ্যে নগরীর পৃথক পৃথক ভাবে শোভাযাত্রা ও সমাবেশ কওে রংপুর জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ সহযোগি সংগঠন। জেলা বিএনপির শোভাযাত্রা নেতৃত্ব দেন জেলা বিএনপির আহবায়ক সাইফুল ইসলামও সদস্য সচিব পরিতোষ চক্রবর্তি। অন্যদিকে মহানগর বিএনপির শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন আহবায়ক সামসুজ্জামান সামু, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক শহিদুল ইসলাম মিজু ও সদস্য সদসিচ মাহফুজ উন নবি চৌধুরী ডন। শোভাযাত্রাদুটি নগরীর গ্রান্ড হোটেল মোড় থেকে শুরু হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবারও গ্রান্ড হোটেল মোড় দিয়ে সমাবেশ করে। এতে কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।