আশাশুনি নওয়াপাড়া ও নৈকাটিতে নদী খননের মাটি বিক্রি বন্ধ হচ্ছে না

এফএনএস (জি.এম. মুজিবুর রহমান; আশাশুনি, সাতক্ষীরা) : | প্রকাশ: ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম
আশাশুনি নওয়াপাড়া ও নৈকাটিতে নদী খননের মাটি বিক্রি বন্ধ হচ্ছে না

আশাশুনি উপজেলায় বেতনা ও মরিচ্চাপ নদী খননের পর নদীর পাশে রাখা মাটি অবাধে কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে এসব মাটি কেটে ভলগেট (বাল্কহেড) ও ট্রলিযোগে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু ঘটনাস্থান পরিদর্শন করে মাটি কাটা যাবেনা, কেউ কাটতে আসলে দ্রুত তাঁকে সংবাদ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এবং স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা প্রদান করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেতনা ও মরিচ্চাপ নদী খননের পর উত্তোলিত মাটি নদীর দুই পাশে স্তূপাকারে রাখা হয়। এসব মাটি বাঁধের মতো কাজ করছে। কিন্তু সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে স্তূপ করা মাটি কেটে ভলগেট ও ট্রলিতে বোঝাই করে অন্যত্র নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নওয়াপাড়ায় ট্রলি চালক আবু তালেবের ছেলে হাবিবুল্লাহ, সাবুদালীর ছেলে রাজ্জাক, সিরাজুলের ছেলে জহিরুল, মৃত মধুর ছেলে সিরাজুল ও সুফিয়া খাতুনের ছেলে সবুজ প্রতিদিন মাটি কেটে তাদের ট্রলিতে ভরে বিভিন্ন এলাকার ক্রেতাদের কাছে নির্দিষ্ট অংকের টাকার বিনিময়ে বিক্রয় করে থাকে।

অপরদিকে নৈকাটি ব্রীজের পূর্ব পাশে শ্মশানঘাটের কাছে প্রায় ৫ বিঘা জমি থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি কেটে বিভিন্ন স্থানে বিক্রয় করছে। নৈকাটিতে রবিউল ইসলাম ও তার ভাইয়ের সরাসরি নেতৃত্বে মাটি লুটের ঘটনা ঘটছে। প্রতি গাড়ি মাটি তারা ৯০০ টাকা হতে ১২০০ টাকা করে বিক্রী করছেন বলে জানাগেছে। তাদের গডফাদার হিসাবে ফারুক ও তোতা রয়েছে বলে বিভিন্ন অনলাইনে প্রচারিত খবরে প্রচার করা হয়েছে। মাটি কাটার কাজে জড়িত কয়েকজনের সঙ্গে কথা বললে তারা মাটি কাটার বিষয়ে কোনো অনুমতি নেননি বলে জানিয়েছেন। ফলে সরকারি প্রকল্পের আওতায় উত্তোলিত এসব মাটি কার অনুমতিতে কাটা ও বিক্রি করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, এভাবে মাটি কাটা অব্যাহত থাকলে নদীর পাড় দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। মাটি কেটে নেওয়ার ফলে নদীর তীরে গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে, দুর্বল হয়ে পড়ছে। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ ও নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে উপকূলীয় এই জনপদে নদীর পাড় ও বাঁধের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, ভলগেট ও ভারী ট্রলিতে করে মাটি পরিবহনের কারণে ওয়াপদার রাস্তা, নওয়াপাড়া পুরাতন খেয়াঘাটের ইটের রাস্তা এবং মহেশ্বরকাটি থেকে চাপড়া গ্রামীণ পিচঢালা সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বালিভর্তি ভারী যানবাহন চলাচলে রাস্তার স্থায়িত্ব কমে যাওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচলেও দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এসব রাস্তা সংস্কারে সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও অবাধে মাটি পরিবহনের কারণে সড়কগুলো দ্রুত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ (সংশোধিত ২০২৩) এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী মাটি ব্যবস্থাপনার বৈধতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। সরেজমিন তদন্ত করে মাটি কাটা ও বিক্রির বৈধতা যাচাই, নদীর পাড় ও বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সরকারি সড়ক রক্ষায় দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী। 

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) উপজেলা নির্বাহী অফিসার অবৈধ ভাবে মাটি কাটার অভিযোগ দেখতে সরেজমিন গমন করেন। তাঁর আগমনের খবর জানতে পেরে কাজের সাথে জড়িতরা ইউএনও মহোদয় পৌছানোর আগেই সটকে পড়তে সক্ষম হয়। ইউএনও শ্যামানন্দ কুন্ডু উপস্থিত লোকজনের সাথে কথা বলেন এবং মাটি কেটে নেওয়ার প্রমাণ দেখতে পেয়ে আর কেউ মাটি কাটতে না পারে সেব্যাপারে তদারকির জন্য ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা প্রদান করেন। মাটি কাটা হলে তাঁকেও খবর দিতে বলেন। কিন্তু একদিন বিশ্রাম নিয়ে শুক্রবার সরকারি ছুটির দীন পুনরায় নওয়াপাড়ায় মাটি কেটে ৪টি ট্রলিতে করে নিয়ে গেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু জানান, নদীর মাটি যাতে কেউ কেটে নিতে না পারে এবং রাস্তা নষ্ট না হয় সে ব্যাপারে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে। পুনরায় মাটি কাটা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার জেলার সংবাদ পড়তে