ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ‘মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষ্যে চাঁদপুরে জেলা বিএনপির উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে র্যালিটি বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। এতে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।
র্যালিপূর্বক আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব ও প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক। চাঁদপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন মাঝির পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. একেএম সলিম উল্যা সেলিমসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
পরে এমপির বাসভবন ‘মুনিরা ভবনে’ চাঁদপুর জেলা বিএনপি আয়োজিত সাত দিনব্যাপী ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ৩৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিজয়ীদের মাঝে রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের ঘোষক, মরহুম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি সারা পৃথিবীর ইতিহাসে একজন সৎ এবং যোগ্য রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি বলেন, সেনাবহরে কর্মরত অবস্থায় ১৯৭৫ সালের সকল সেনাবাহিনীর যত সৈনিক ছিলেন, তাদের প্রিয়পাত্র হিসেবে এই ৭ নভেম্বর তাকে মুক্ত করে নিয়ে এসেছে। যদি তাই না হত এবং তিনি যদি জাতীয়তাবাদী দল তৈরি না করতেন, তবে এই বাংলাদেশের চিত্র অন্যরকম হত।
ফ্যাসিবাদ ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে যারা ফ্যাসিবাদকে লালন-পালন করেছেন, তাদের রক্তের বিনিময়ে আমড়া এই দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করেছি। এখন থেকে ফ্যাসিবাদী বা চাঁদাবাজদের যেখানেই দেখা যাবে, তাদের ধরে সরাসরি পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে। কারও অন্যায় বা আস্ফালন সহ্য করা হবে না। চাঁদপুর জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হবে।
তিনি নেতাকর্মীদের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের সেবা করাই আমাদের কাজ। সপ্তাহে অন্তত দুই দীন সাধারণ মানুষের কাছে যান এবং তাদের খোঁজখবর নিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দীন।
উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন খান বাবুল, দেওয়ান মো. সফিকুজ্জামান, খলিলুর রহমান গাজি, ফেরদৌস আলম বাবু, চাঁদপুর পৌর বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. হারুনুর রসিদ, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হাজি শাহজালাল মিশন,আফজাল হোসেন, কোষাধক্ষ্য কাদির বেপারী, দপ্তর সম্পাদক হজরত আলী ঢালি, প্রচার সম্পাদক শরিফ উদ্দিন পলাশ, জেলা যুবদলের সভাপতি মানিকুর রহমান মানিক, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন খান আকাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বাহার,জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শিরিন সুলতানা মুক্তা,জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মাসুদ মাঝি, সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন,
জেলা ছাত্র দলের আহবায়ক ইসমাইল হোসেন পাটোয়ারী, সদস্য সচিব জিয়াউর রহমান সোহাগ প্রমুখ। এছাড়া বিএনপির অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ৭ই নভেম্বরের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।