বাগমারায় স্বামী-স্ত্রীকে জিম্মি করে মারধর ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ

এফএনএস (বাগমারা, রাজশাহী) | প্রকাশ: ২ নভেম্বর, ২০২৬, ০৫:২১ পিএম
বাগমারায় স্বামী-স্ত্রীকে জিম্মি করে মারধর ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ
রাজশাহীর বাগমারায় স্বামী-স্ত্রীকে জিম্মি করে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্বামীকে মারধরের পাশাপাশি তাকে রক্ষা করতে গিয়ে ছোট ভাইও হামলার শিকার হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, তাদের কাছ থেকে ৫২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে মব সৃষ্টির মাধ্যমে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এরশাদুল ইসলাম বাগমারা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কাচারী কোয়ালিপাড়া গ্রামের এরশাদুল ইসলাম (৩৬) ও তার স্ত্রী মোছা. তারা খাতুনের (৩৫) মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। গত ২৭ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তারা বাগমারার মোহনপুর গ্রামে স্ত্রীর বড় ভাই মো. আঃ মান্নানের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সেখানে পারিবারিক বিষয় নিয়ে আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা চলছিল। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে মোহনপুর গ্রামের রুস্তম আলী (৫০), সাজেদুর রহমান (৪৫), মো. আঃ গাফফার (৫৫), মাহাবুবুর রহমান (৩৫), এমরান আলী (৩৬) ও রানা (২৫) সেখানে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তারা এরশাদুল ইসলামের ওপর চড়াও হয়ে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে মারধর করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। পরে তাকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ভাইয়ের ওপর হামলার খবর পেয়ে তাকে রক্ষা করতে ঘটনাস্থলে যান ছোট ভাই মো. রুবেল হোসেন (৩০)। এ সময় অভিযুক্তরা তাকেও এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে রুবেল শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান। অভিযোগকারীর দাবি, মারধরের একপর্যায়ে রুবেলের কাছে থাকা ৫২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নিলে অভিযুক্তরা তাদেরও প্রাণনাশের হুমকি দেন। মামলা-মোকদ্দমা ও আইনি হয়রানির ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে চাপের মুখে রাখার চেষ্টা করা হয়। এমনকি সুযোগ পেলে তাদের হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন এরশাদুল ইসলাম। ঘটনার পর আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত প্রতিকার চেয়ে বাগমারা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এরশাদুল ইসলাম। ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ছিনিয়ে নেওয়া টাকা উদ্ধারের দাবি জানিয়েছে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সাজেদুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কারণে কথা বলতে পারেননি। এ বিষয়ে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে