পাবনার ঈশ্বরদীতে কয়েক দিনের অসময়ের ঝড়-বৃষ্টিতে মাঠের পাকা ও আধাপাকা আমন ধান নুয়ে পড়েছে। অনেক জমিতে পানি জমে থাকায় ধান পচে যাওয়া ও ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ধান কাটার ঠিক আগমুহূর্তে এমন পরিস্থিতিতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ জমির ধানগাছ শীষসহ মাটিতে হেলে পড়েছে। কোথাও কোথাও ধানের শীষ পানিতে ডুবে আছে। আবার কোনো জমিতে পাকা ও আধাপাকা ধানগাছ মাটির ওপর বিছিয়ে রয়েছে। এতে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন চাষিরা।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে গত বুধবার থেকে শুক্রবার (২৮-৩০ অক্টোবর) পর্যন্ত ঈশ্বরদী ও নাটোরের লালপুর এলাকায় মোট ১১৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
ঈশ্বরদীর সুলতানপুর গ্রামের কৃষক মোক্তার হোসেন বলেন, তার জমির প্রায় পাকা ধান শীষসহ মাটিতে পড়ে গেছে। ১০ থেকে ১৫ দিন পর ধান কাটার কথা ছিল। কিন্তু জমিতে পানি জমে থাকায় ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি। তার ধারণা, ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে বিঘাপ্রতি চার থেকে পাঁচ মণ পর্যন্ত ধান কম পাওয়া যেতে পারে। মানিকৈড় গ্রামের কৃষক জহুরুল ইসলাম বলেন, তার মতো এলাকার অনেক কৃষকের রোপা আমনের ক্ষেত ঝড়-বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে শেখপাড়া গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, ধান পাকার শেষ সময়ে এমন দুর্যোগের কারণে উৎপাদন খরচও ওঠানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
কৃষকদের প্রত্যাশা, দ্রুত আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং জমি থেকে পানি নেমে গেলে ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে। তবে শেষ মুহূর্তে প্রকৃতির এমন বিরূপ আচরণে সোনালি ফসল ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন ঈশ্বরদীর আমন চাষিরা।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১৩ হাজার ৬৬১ মেট্রিকটন ধান। ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন বলেন, চলতি বছর উপজেলায় রোপা আমনের ফলন বেশ ভালো হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। বিশেষ করে ব্রি ধান-১০৩ জাতের ধান বিঘাপ্রতি ২০ থেকে ২২ মণ পর্যন্ত ফলন হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে ধান পাকার সময়ে অসময়ের ঝড়-বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তিনি জানান, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নুয়ে পড়া ধানের গোছা বেঁধে সোজা করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জমিতে জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে ধানগাছ ও শীষ পচে যাওয়ার ঝুঁকি কমানো যায়।