ঈশ্বরদীতে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

এফএনএস (সেলিম আহমেদ; ঈশ্বরদী, পাবনা) : | প্রকাশ: ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৭ এএম
ঈশ্বরদীতে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

পাবনার ঈশ্বরদীতে হৃদয় প্রামাণিক (৩০) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১ নভেম্বর) রাত আনুমানিক নয়টার দিকে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের দিয়াড়সাহাপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।  নিহত হৃদয় প্রামাণিক উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের মানিকনগর মধ্যপাড়া (পাঠশালা মোড়) এলাকার আনজারুল প্রামাণিকের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হৃদয় তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে দিয়াড়সাহাপুর এলাকার ছবি মন্ডলের বাড়িতে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন। গত তিন দিন আগে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী সুমাইয়া তার বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর থেকেই হৃদয় ওই বাসায় একাকী বসবাস করছিলেন।

রোববার সন্ধ্যার পর বাড়ির মালিক হৃদয়ের খোঁজ নিতে গিয়ে কোনো সঁাড়া পাননি। পরবর্তীতে তার পরিবারকে খবর দেওয়া হলে স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে হৃদয়ের মা ভাড়া বাসায় আসেন। এক পর্যায়ে অনেক ডাকাডাকি ও দরজা ধাক্কাধাক্কির পর দরজা খুলে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় হৃদয়ের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান তারা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ঘটনাস্থল থেকে হাতে লেখা একটি চিরকুট বা চিঠি উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই চিঠিতে লেখা রয়েছে আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী সুমাইয়া, আমার ছেলেকে মারছে শরীফ, আমার জন্য দোয়া করবেন।

এদিকে নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চিঠিতে উল্লেখিত শরীফ হৃদয়ের দ্বিতীয় স্ত্রী সুমাইয়ার বড় ভাই। প্রায় এক মাস আগে সুমাইয়া একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন এবং জন্মের কয়েকদিন পর শিশুটি মারা যায়। তবে ঠিক কী কারণে নবজাতকটি মারা গেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন,ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি গভীর ভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে