রাজশাহীর তানোর উপজেলায় এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছকেটে উল্টো প্রধানশিক্ষককে ডেকে প্রহসনের সালিশে লক্ষাধিক টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এছাড়াও গাছ কর্তনকারী ব্যক্তির ৩০ হাজার টাকা জরিমানাও আদায় করা হয়। ওই এলাকার প্রভাবশালী ইউনিয়ন কৃষকদলের সাবেক সভাপতি ও মাদ্রাসা শিক্ষক ইউসুফ আলীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এখানেই শেষ নয়, পরবর্তীতে আরও ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি এবং স্কুল ছাড়ার হুমকি দেওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ওই প্রধানশিক্ষক। বর্তমানে তিনি প্রাণভয়ে নিজ এলাকা ছেড়ে রাজশাহী মহানগরীতে আত্মগোপনে রয়েছেন। গত বুধবার ২৮ অক্টোবর তানোর উপজেলার মাড়িয়া জমসেরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। পরে নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী প্রধানশিক্ষকের জামাতা মো. মিজানুর রহমান (৩৭) বাদী হয়ে গত ৩০ অক্টোবর তানোর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগকারী মিজানুর রহমান উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের মো. দাউদ আলীর ছেলে। অন্যদিকে অভিযুক্ত প্রভাবশালী উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়ন কৃষকদলের সাবেক সভাপতি ও মাদ্রাসা শিক্ষক ইউসুফ আলী (৫৭) একই গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম মৃত আব্দুর রাজ্জাক। একটি সরকারি বিদ্যালয়ের গাছ কেটে উল্টো প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে এভাবে হেনস্তা ও চাঁদাবাজির ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত কৃষকদল নেতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ ও ২৪ অক্টোবর উপজেলার কামারগাঁ ইউপির মাড়িয়া জমসেরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রজাতির ৫টি গাছ কর্তন করেন প্রভাবশালী নেতা ইউসুফ আলীর সহযোগী শফি নামের একব্যক্তি। তার পিতার নাম নাজু মন্ডল। পরে বিদ্যালয়ের সরকারি গাছ রক্ষায় প্রধানশিক্ষক বাধা দিলে তার ওপর চড়াও হন তারা। পরবর্তীতে বিষয়টি মীমাংসার নামে গত ২৬ অক্টোবর স্কুল মাঠে ইউসুফ আলীর সভাপতিত্বে একটি ‘প্রহসনের সালিশ’ বসানো হয়। সেখানে টাকা নিয়ে প্রধান শিক্ষক শফির কাছে গাছ বিক্রির কথা জানান। এতে উল্টো প্রধানশিক্ষককেই দোষী সাব্যস্ত করে জোরপূর্বক এক লক্ষাধিক টাকা আর গাছকর্তনকারী শফির ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
ভুক্তভোগী ও অভিযোগকারী মিজানুর রহমান জানায়, লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরও ক্ষান্ত হননি কৃষকদল নেতা ইউসুফ আলী। তিনি নতুন করে আরও ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। এই চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রধানশিক্ষককে স্কুল ছাড়ার চূড়ান্ত হুমকি দেওয়া হয়, অন্যথায় তার বড় ধরনের ক্ষতি করা হবে বলে জানানো হয়। চাঁদা দাবির কলরেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়েছে। এমন কলরেকর্ড এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষণ রয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে তীব্র আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন প্রধানশিক্ষক। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি বর্তমানে রাজশাহী শহরে গিয়ে আত্মগোপন করতে বাধ্য হয়েছেন।
এবিষয়ে কৃষকদল নেতা ইউসুফ আলী বলেন, স্কুলের গাছ কর্তনের কারণে সালিশে প্রধান শিক্ষকের ও তার সহযোগীর ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। সেই টাকা তাফসির কমিটির কাছে আছে। পরবর্তীতে স্কুলের উন্নয়ন কাজে ব্যবহার করা হবে। তবে, এনিয়ে স্কুলের গাছ কর্তনকারী শফি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এব্যাপারে জানতে চাইলে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, "বিদ্যালয়ের গাছ কাটা, জরিমানা আদায় এবং পরবর্তীতে চাঁদা দাবির বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"