ধর্মীয় পরিচয় নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার ও মর্যাদা সমান, এমন বাংলাদেশ গড়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একই সঙ্গে ভিন্ন ধর্মের মানুষের বিশ্বাস, উপাসনা ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা সবার নৈতিক দায়িত্ব। ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে উদ্যাপনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার প্রেমতলা এলাকায় একটি দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী, বিএনপি ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আসলাম চৌধুরী বলেন, ধর্ম মানুষের মধ্যে বিভেদ ও বিদ্বেষ তৈরির জন্য নয়, বরং মানবিকতা, সহনশীলতা ও নৈতিকতার শিক্ষা দেয়। অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাস ও উপাসনার অধিকারকে সম্মান জানানো শান্তিপূর্ণ সমাজের অন্যতম ভিত্তি। সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সমান অধিকার নিশ্চিত করা গেলে সামাজিক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে। তিনি আরও বলেন, দুর্গাপূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপনের পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, আয়োজক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কারণে যেন অন্যের ধর্মীয় অধিকার ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে আসলাম চৌধুরী আরো বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকার ও বিএনপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে উপহার ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোহন পাল। উপস্থিত ছিলেন সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডাক্তার কমল কদর, সদস্যসচিব মোঃ মোরসালিন, পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন, সদস্যসচিব ছালে আহমদ ছলু, সাবেক সভাপতি মো. ইউছুফ নিজামী, মুজাহির উদ্দিন আশরাফ, শহীদুল্লাহ ভূঁইয়া, উপজেলা জন্মাষ্টমী উদ্যাপন কমিটির সভাপতি সুনন্দা ভট্টাচার্য সাগর, উপজেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি অমলেন্দু কণক, সাধারণ সম্পাদক বাবুল বাহাদুর শাস্ত্রী, পৌরসভা পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি সুজন মল্লিক ও সাধারণ সম্পাদক পাপন কৃষ্ণ দাসসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার পাশাপাশি সব সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা, সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা যে কোনো গণতান্ত্রিক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।