সমবায় আন্দোলনে বিশেষ অবদান, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অনন্য ভূমিকা রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৫ সালের ‘শ্রেষ্ঠ সমবায়ী’ হিসেবে জাতীয় সমবায় পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন চাঁদপুরের কৃতি সন্তান মো. জসিম উদ্দীন। তিনি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার চান্দ্রা শিক্ষিত বেকার যুব বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি এবং বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের সম্পাদক।
আজ ৮ নভেম্বর জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে মাননীয় রাষ্ট্রপতির হাত থেকে এ ঢ়ৎবংঃরমরড়ঁং (মর্যাদাপূর্ণ) পুরস্কার গ্রহণের কথা রয়েছে তাঁর।
সমবায় আন্দোলনে দুই দশকের বর্ণাঢ্য যাত্রা
মো. জসিম উদ্দীন এর আগেও ২০০৮ সালে শ্রেষ্ঠ সমবায়ী হিসেবে জাতীয় সমবায় পুরস্কার অর্জন করেছিলেন। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সমবায় আন্দোলনের সঙ্গে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা তৈরি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং সমবায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে তাঁর অবদানের কথা আজ সর্বমহলে স্বীকৃত।
২০০১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই চান্দ্রা শিক্ষিত বেকার যুব বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি হিসেবে তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তাঁর দক্ষ নেতৃত্বে সমিতিটি স্বনির্ভরতা অর্জন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদন ও বিপণনসহ বহুমুখী উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়ন করে আসছে।
বহুমুখী নেতৃত্ব ও জাতীয় দায়িত্ব
ব্যক্তিগত উদ্যম ও কর্মদক্ষতায় মোকে জসিম উদ্দীন শুধু সমবায় খাতেই নয়, বরং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি স্বনির্ভর ও দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্পের পরিচালক এবং এসবিসিএল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া তিনি চান্দ্রা ট্রেডিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং জে এস এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী।
জাতীয় পর্যায়েও তাঁর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার মূল্যায়ন হয়েছে। তিনি সরকার মনোনীত সমবায় উন্নয়ন তহবিল পরিচালনা কমিটির সদস্য, জাতীয় সমবায় পুরস্কারের জাতীয় বাছাই কমিটির সদস্য এবং বাংলাদেশ সমবায় বাজার কনসোর্টিয়ামের পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সাল থেকে তিনি অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব
সমবায়ীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণেও তাঁর রয়েছে উল্লেখযোগ্য অবদান। কুমিল্লা কোটবাড়ীর বাংলাদেশ সমবায় একাডেমি সহ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আয়োজিত প্রশিক্ষণ ও সেমিনারে তিনি সমবায় সমিতির হিসাব, নিরীক্ষা, বিনিয়োগ কৌশল এবং সমবায় আন্দোলনকে শক্তিশালী করার বিষয়ে মূল্যবান দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছেন।
দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তিনি দেশের সুনাম উজ্জ্বল করেছেন। থাইল্যান্ডে স্টাডি ট্যুর, কানাডায় ওয়ার্ল্ড ক্রেডিট ইউনিয়ন কনফারেন্স, ইন্দোনেশিয়ায় এশিয়ান কনফেডারেশন অব ক্রেডিট ইউনিয়নের কার্যক্রম, শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় ১৭তম আইসিএ-এপি আঞ্চলিক সভা এবং ২০২৬ সালে পানামায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সমবায় জোটের (আইসিএ) গ্লোবাল কনফারেন্স ও জেনারেল অ্যাসেম্বলিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন তিনি।
সামাজিক কর্মকাণ্ড ও সম্মাননা
সমবায় কার্যক্রমের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কাজেও তিনি সমানভাবে সম্পৃক্ত। তিনি চাঁদপুর প্রেসক্লাব, চাঁদপুর ডায়াবেটিক সমিতি ও চাঁদপুর রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির আজীবন সদস্য। এ ছাড়া রোটারি ক্লাব অব চাঁদপুর সেন্ট্রাল-এর সদস্য এবং চাঁদপুরস্থ ফরিদগঞ্জ ফাউন্ডেশনের সহ-প্রভাবশালী সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর এই দীর্ঘ বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে বহু সম্মাননা স্মারক অর্জন করেছেন।
স্থানীয় মহলে আনন্দের বন্যা
মো. জসিম উদ্দীনের দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় পুরস্কার অর্জনের খবরে চাঁদপুর ও ফরিদগঞ্জের সমবায়ী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আনন্দের জোয়ার বইছে। বিভিন্ন মহল থেকে তাঁকে উষ্ণ অভিনন্দন জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, মো. জসিম উদ্দীনের এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জন স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সমবায় আন্দোলনকে আরও বেশি গতিশীল ও বেগবান করবে।