বদলাবে দুর্গম ঈশানবালা হাইমচর মেঘনার চর

চাঁদপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাইয়ে বিডা চেয়ারম্যান

এফএনএস (মিজানুর রহমান; চাঁদপুর) : | প্রকাশ: ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ০৩:১১ পিএম
চাঁদপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাইয়ে বিডা চেয়ারম্যান
ছবি: FNS

মেঘনা নদীবেষ্টিত চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার এককালের অবহেলিত ও দুর্গম ঈশানবালা মেঘনার চরকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। শিল্পায়নের ছোঁয়ায় বদলে যেতে পারে চরাঞ্চলটির রূপরেখা। ঈশানবালায় একটি আধুনিক ‘অর্থনৈতিক অঞ্চল’ (ঊপড়হড়সরপ তড়হব) প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক সম্ভাবনা যাচাইয়ে শনিবার (৭ নভেম্বর) সরেজমিনে এলাকাটি পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) একটি প্রতিনিধিদল।

চাঁদপুর -৩ (সদর ও হাইমচর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিককে সঙ্গে নিয়ে বিডা চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি চরাঞ্চলে উপস্থিত হয়ে সেখানকার ভৌগোলিক অবস্থান, খাস জমির প্রাপ্যতা, নদী ও স্থল যোগাযোগব্যবস্থা এবং শিল্পকারখানা স্থাপনের অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা সরেজমিনে পর্যালোচনা করেন।

দীর্ঘদিন ধরে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানের অভাবে মূল ভূখণ্ড এবং উন্নয়নের মূলধারা থেকে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে মেঘনার বুকে জেগে থাকা ঈশানবালা। পর্যাপ্ত আয়ের সুযোগ না থাকায় স্থানীয়দের বড় একটি অংশ জীবিকার প্রয়োজনে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি জমাতেন। এমন প্রেক্ষাপটে এখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ চরাঞ্চলবাসীর মনে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে।

পরিদর্শনকালে বিডা চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন জানান, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি ও কর্মসংস্থান বাড়ানোই তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, “ঈশানবালা চরে শিল্পকারখানা স্থাপনের উপযোগিতা গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সম্ভাব্যতা যাচাই (ঋবধংরনরষরঃু ঝঃঁফু) শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।” উদ্যোগটিকে চাঁদপুর তথা পুরো দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতির জন্য গেম-চেঞ্জার হিসেবে দেখছেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক। তিনি বলেন, “ঈশানবালা চরে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠলে চাঁদপুরের শিল্প খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এতে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান আমূল বদলে যাবে।” একই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে নীলকমল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনির হোসেন বলেন, “উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে পিছিয়ে পড়া চরাঞ্চলের মানুষ নিজ এলাকাতেই জীবিকার সমাধান খুঁজে পাবে। আমড়া দ্রুত এর বাস্তব রূপ দেখতে চাঁই।” পরিদর্শনকালে বিডা চেয়ারম্যানের সাথে চাঁদপুরের জেলাপ্রশাসক (ডিসি) আহমেদ জিয়াউর রহমানসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রক্রিয়াটি সফল হলে চরাঞ্চলের অনুন্নত এই ভূমি পরিণত হবে জেলার অন্যতম অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্রে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে