চলনবিলে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী বাউৎ উৎসব

এফএনএস (হেলালুর রহমান জুয়েল; চাটমোহর, পাবনা) : | প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
চলনবিলে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী বাউৎ উৎসব

পাবনার চাটমোহরসহ চলনবিল অঞ্চলে শুরু হয়েছে মাছ শিকারের ঐতিহ্যবহিী বাউৎ উৎসব। পানি কমে যাওয়ায় এবছর আগেই মাছ ধরার এই আয়োজন করা হয়েছে।  চাটমোহর উপজেলার রামের বিল,খলিশাগাড়ি বিল,ডিকশি বিল,বিলকুড়ালিয়া,গুমানী ও চিকনাই নদী এবং চলনবিল অঞ্চলের বিভিন্ন বিলে চলছে এই উৎসব। চলনবিল অঞ্চলের ভাষায় এই উৎসবকে বলা হয় ‘বাউত উৎসব”। সপ্তাহের প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার নির্দিষ্ট একটি বিলে বাউত নামে। বিভিন্ন উপজেলার শত শত মানুষ ভোর হতেই নানা যানবাহনে মাছ ধরার হরেক রকম উপকরণ নিয়ে হাজির হয় বিলে। হৈ হৈ রৈ রৈ করতে করতে করতে আল্লাহ ও রাসুলের নাম নিয়ে নেমে পড়ে বিলের শীতল পানিতে। শত শত সৌখিন মৎস্য শিকারীর হাতে হাতে পলো। এছাড়া নানা রকমের জাল দিয়েও মাছ ধরা হয়। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত মাছ ধরার এই উৎসবে যোগ দেয়। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে চাটমোহর উপজেলার খলিশাগাড়ি ও আফরার বিলে নামে বাউত। চাটমোহর,ভাঙ্গুড়াসহ আশপাশের উপজেলার কয়েক শত মানুষ নেমে পড়ে বিলে। আগামী এক মাস এই মাছ ধরার উৎসব চলবে বলে জানান বাউতে আসা মৎস্য শিকারীরা। বাউতে আসা সৌখিন মৎস্য শিকারী আমের আলী জানান,এই মাছ ধরা উৎসবে বোয়াল,শোল,রুই,কাতলা ছাড়াও হরেক রকম দেশী প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। প্রতি বছরই চলনবিল অঞ্চলে নদী ও বিলে কার্তিক,আগ্রহায়ন ও পৌষ মাসে বাউত নামে। এবার পানি দ্রুতই শুকিয়ে যাচ্ছে,তাই এখনই এই মাছ ধরার উৎসব শুরু হয়েছে। এদিকে বাউত উৎসবের কারণে বিলের জীব বৈচিত্র্য চরমভাবে বিনষ্ট হচ্ছে। বিলের অসংখ্য ছোট মাছ মারা যাচ্ছে। চাটমোহর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আঃ মতিন জানান,বাউত উৎসব চলছে দীর্ঘদিন ধরেই। এতে বিলে জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারি-বেসরকারিভাবে গণসচেতনতা বাড়ানো দরকার।


আপনার জেলার সংবাদ পড়তে