রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় অভিযোগ ওঠার পর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে।
পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। তিনি বলেন, “স্পিকারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। দল যে সিদ্ধান্ত নেবে তাই মেনে নেবো।”
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর লিখিত নির্দেশনা পাওয়ার পরই জাতীয় সংসদে গিয়ে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন মিষ্টি। বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি সংসদে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ওই ঘটনায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক, তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নামও আলোচনায় আসে। স্থানীয় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। তবে মিষ্টি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্তাধীন ছিল।
৩০ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, রাড্ডা সেন্টারে হামলার ঘটনায় একজন সংসদ সদস্যের কথিত সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। কমিটি বিলুপ্তির পর তার দলীয় পদ এবং সংসদ সদস্য পদ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরে দুপুরেই তিনি জাতীয় সংসদে গিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
মিষ্টির পদত্যাগের পর এখন রাড্ডা সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় চলমান তদন্ত কোন পর্যায়ে যায়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও সামনে রয়েছে।