রাজধানীর ইসিবি চত্বরের দক্ষিণ মানিকদীতে নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় করা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম ডিবির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক জেহাদ হোসেন মহিউদ্দিন চৌধুরীকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানিতে বাদীপক্ষে আইনজীবী আনিসুর রহমান বাবুল রিমান্ডের পক্ষে অবস্থান নেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ঢাকার বারের সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ও আইনজীবী আবুল কালাম খান রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া আদালতে বলেন, নিউগিনি প্রপার্টিজের বিরুদ্ধে ভূমি দখল এবং চলাচলের রাস্তা দখলের অভিযোগ রয়েছে। তার দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত মামলা এবং গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে মামলার চার নম্বর আসামি করা হয়েছে। মামলায় তার বিরুদ্ধে পারভেজ নামের একজনের পকেট থেকে সাত হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী একজন সাবেক মেজর জেনারেল ও চিকিৎসক। এ ধরনের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে মিথ্যা। তাই রিমান্ড বাতিল করে জামিন দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।
আরেক আইনজীবী আবুল কালাম খান বলেন, গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তিনি মিরপুর সরকারি ডেন্টাল হাসপাতালের ছাত্রদলের জিএস ছিলেন এবং বর্তমানে এভারকেয়ার হাসপাতালে কর্মরত। তার রিমান্ড বাতিল করে জামিন দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।
দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তারেকুর রহমান রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ৩টার দিকে রমনা থানার সেগুনবাগিচার একটি বাসা থেকে গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। তিনি নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলার ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় করা মামলার চার নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি।
হামলায় প্রকল্পের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা প্রকল্প এলাকা থেকে নগদ টাকা, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, বিআরবি ক্যাবল, ক্যামেরা ও প্রফেশনাল মিডিয়া ইকুইপমেন্টসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়। এ সময় গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, এতে নিউগিনি প্রপার্টিজের প্রায় এক কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি এক কোটি ৫০ লাখ ৪৩ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
হামলার সময় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওতেও অনধিকার প্রবেশ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়ে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও আত্মরক্ষায় পুলিশ পাঁচ রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে অভিযান চালিয়ে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র ও গুলির খোসা উদ্ধারের কথাও মামলার নথিতে বলা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিউগিনি প্রপার্টিজের প্রকল্প কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর মামুন, মো. আসলাম ও মো. মুন্না নামে তিন আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছিল।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনাটির তদন্তে প্রাথমিকভাবে জমির দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
তবে শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের পরিবর্তে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।