মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে ভাঙচুর-আগুন, চার মামলায় আসামি প্রায় ২ হাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১ অক্টোবর, ২০২৬, ০১:২৮ পিএম
মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে ভাঙচুর-আগুন, চার মামলায় আসামি প্রায় ২ হাজার
ছবি: সংগ্রহীত

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। মিরপুর মডেল থানায় তিনটি এবং কাফরুল থানায় একটি মামলায় মোট প্রায় দুই হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। প্রত্যেক মামলায় ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, মিরপুর মডেল থানায় তিনটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) বাদী হয়ে সিটি করপোরেশনের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় একটি, পুলিশ বাদী হয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় একটি এবং ট্রাফিক পুলিশ বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করেছে। তিন মামলার প্রতিটিতে ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

কাফরুল থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, সিটি করপোরেশনের গাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগে ডিএনসিসির পক্ষ থেকে আরেকটি মামলা করা হয়েছে। এতে ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ঘটনার সূত্রপাত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে। মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের দিকে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলীর নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হচ্ছিল।

অভিযানের একপর্যায়ে হোপ মার্কেটসংলগ্ন বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদ মার্কেটের নিচে থাকা ভাসমান দোকান সরানোর সময় ভেকুর আঘাতে একটি বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে আগুন ধরে যায় বলে স্থানীয় দোকানি ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। আগুনে মার্কেটের পাঁচটি দোকান পুড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। ১৫ থেকে ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

আগুন লাগার পর ক্ষুব্ধ হকার ও দোকানিরা সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ওপর হামলা চালালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের সঙ্গেও হকারদের সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে হকাররা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

সংঘর্ষের মধ্যে সিটি করপোরেশনের তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশের একটি গাড়ির কাচও ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষের কারণে মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪ নম্বর পর্যন্ত সড়কে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে। ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরাও বাধার মুখে পড়েন।

পরে দুপুরের দিকে আবারও উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। মিরপুর-১০ থেকে ১৩ নম্বর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাতে থাকা ভাসমান দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হয়।

দুপুরে ঘটনাস্থলে যান ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এবং সিটি করপোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িগুলো পরিদর্শন করেন।

এ সময় তিনি বলেন, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা পরিকল্পিত। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে এবং তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে হবে।

ঘটনার পর পৃথক চারটি মামলা হওয়ায় আসামির সংখ্যা প্রায় দুই হাজারে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে মিরপুর মডেল থানার তিন মামলায় এবং কাফরুল থানার একটি মামলায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন করে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলাগুলোতে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার পাশাপাশি আটকের পর তাদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে