আন্ধার মানিক নদীতে

অত্যাধুনিক আইকনিক ফোরলেন সেতুর নির্মাণ কাজ শেষের পথে

এফএনএস (কুয়াকাটা, পটুয়াখালী) :
| আপডেট: ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:০২ পিএম | প্রকাশ: ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:০২ পিএম
অত্যাধুনিক আইকনিক ফোরলেন সেতুর নির্মাণ কাজ শেষের পথে

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা বন্দরে আন্ধারমানিক নদীর উপর অত্যাধুনিক দৃষ্টিনন্দন আইকনিক ফোরলেন সেতুর নির্মাণ কাজ শেষের পথে। ইতোমধ্যে সেতুটির ৯৪ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এ বছরের নভেম্বরে সেতুটির কাজ শেষ হচ্ছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অক্টোবরের মধ্যে সেতুটির মূল অবকাঠামোর কাজ শেষ হবে। এটিতে গাড়ি চলাচল উপযোগী হবে অক্টোবরের শেষের দিকে। ফলে পায়রা বন্দরের আরেক নবদিগন্তের সূচনা হবে। এগিয়ে যাবে নতুন এক লক্ষ্যে। 

১১৮০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুর পাইলিংয়ের কাজ শুরু হয় ২০২৪ সালের মার্চ মাসে। ১২ মার্চ এই কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের তৎকালীন চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী। পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনাল চারিপাড়ার সঙ্গে সিক্সলেন সড়কের সঙ্গে ঢাকা-কুয়াকাটাগামী মহাসড়কে পণ্য পরিবহনের পথ উন্মুক্ত হবে এই সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলে। পায়রা বন্দরের সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) তাজহার কবির এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাড়ে নয় শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুটি। বন্দরের সিক্সলেন সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত সেতুটি নির্মিত হওয়ায় সেতুটির মাধ্যমে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের সঙ্গে পায়রা বন্দরের  রাবনাবাদ চ্যানেলে নির্মিত ফার্স্ট টার্মিনালের সঙ্গে সরাসরি  সংযোগ স্থাপিত হচ্ছে। ফলে পায়রা বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম দ্রুত ও সহজতর হবে। এছাড়াও  বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ব্যাপক গতি সঞ্চার হবে। চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ব্রিজ কনস্ট্রাকশন গ্রুপ ঈযধরহধ জধরষধিু ইৎরফমব ঈড়হংঃৎঁপঃরড়হ এৎড়ঁঢ় (ঈজইএ) এবং চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্টিটিউশন কর্পোরেশন ঈযধরহধ ঈরারষ ঊহমরহববৎরহম ঈড়হংঃরঃঁঃরড়হ ঈড়ৎঢ়ড়ৎধঃরড়হ (ঈঈঊঈঈ) এ সেতুটির নির্মাণ কাজ করছে।

আন্ধারমানিক নদীর নাব্যতা বজায় রাখতে উক্ত নদীতে সার্বক্ষণিক জাহাজ ও লঞ্চ  চলাচলের সুবিধা বিবেচনা করে এক্সট্রা ডজড (ঊীঃৎধ উড়ংবফ) পদ্ধতিতে মাত্র দুইটি পিয়ার স্থাপনের মাধ্যমে সেতুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে। দৃষ্টিনন্দন এই সেতুটি নির্মাণের ফলে স্থানীয় মানুষ ও দর্শনার্থী প্রতিদিন সেতু এলাকার সিক্সলেন সড়কে ভিড় করছেন। তাঁরা ঘুরছেন। দেখছেন দৃষ্টিনন্দন এ স্থাপনা। সেতুটি নির্মাণে নদীর মধ্যে নেই কোন পিলার বা পাইল। কোরিয়ান পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সেতুটি অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন ও আইকনিক হয়েছে বলে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেন। সেতুটির নির্মাণ সম্পন্ন হলে চাড়িপাড়ায় রাবনাবাদ নদীতে নির্মিত ফার্স্ট টার্মিনাল থেকে সরাসরি পণ্য সড়কপথে ঢাকায় যেতে পারবে। বিনিয়োগকারীরা সরাসরি গাড়িযোগে পায়রাবন্দরের রাবনাবাদ চ্যাণেলের ফার্স্ট টার্মিনালে যেতে পারবেন। তবে এজন্য অন্তত আরো কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে বলে জানা গেছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে