সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নেপথ্যে...

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম
সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নেপথ্যে...

বরিশালের আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে থানায় হামলা ভাঙচুরের মামলার পর এবার একই প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতির বিরুদ্ধে পুলিশ পরিচয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৭ আগস্ট বরিশালের আদালতে এক নারী নালিশি মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারতের নির্দেশে ২৫ আগস্ট আগৈলঝাড়া থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। মামলা দায়েরের খবর সর্বত্র ছড়িয়ে পরলে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি মিথ্যে, ষড়যন্ত্র ও হয়রানিমূলক দাবি করে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে মামলাটি প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক সমাজসহ সচেতন মহল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের চাঁদত্রিশিরা গ্রামের সৌদি প্রবাসী সেলিম বক্তিয়ারের বড় মেয়ে জান্নাত বেগমকে একই এলাকার কালাম খানের ছেলে রাজিব খানের কাছে বিবাহ দেয়া হয়। সেলিম বক্তিয়ার সৌদি আরব থাকার সুবাদে তার স্ত্রীর সাথে মেয়ের শ্বশুর (বেয়াই) কালাম খানের পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বেয়াই ও বেয়াইনের পরকীয়ার বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক চাউর হয়। ওই সংবাদ সংগ্রহ করতে স্থানীয় সাংবাদিকরা অতিসম্প্রতি চাঁদত্রিশিরা গ্রামে যায়। সাংবাদিকরা স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে উভয়পক্ষের সাথে কথা বলে চলে আসেন।

সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রবাসীর স্ত্রী (৫০) তার নিজের অপরাধ আড়াল করার জন্য আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি আকাশ মাহমুদ ও উপজেলার চাঁদত্রিশিরা গ্রামের ফয়জদ্দিন খানের ছেলে বাবুল খানের (৪০) বিরুদ্ধে গত ১৭ আগস্ট বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি নালিশি মামলা দায়ের করেন (এমপি মামলা নং- ৪০৬/২৬)। আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে আগৈলঝাড়া থানার ওসিকে এজাহারগ্রহণের নির্দেশ দেয়। আদালতের আদেশে আগৈলঝাড়া থানা ওসি গত ২৫ আগস্ট মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করেন। 

স্থানীয় তুহিন বখতিয়ার, আকরাম খান, মাসুদ বক্তিয়ার, জামাল বখতিয়ার ও মাফুজা বেগমসহ অনেকেই জানিয়েছেন , সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহ করতে আসে। এখানে প্রবাসীর স্ত্রী যে মামলা দিয়েছে তা মিথ্যা। ওই মামলার কোন সত্যতা নেই। ওই মহিলা তার নিজের অপরাধ ধামাচাঁপা দেয়ার জন্য ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করছে।

এ ব্যাপারে আগৈলঝাড়া উপজেলার বড় বাশাইল গ্ৰামের বাসিন্দা বেলায়েত হাওলাদারের ছেলে সাংবাদিক আকাশ হাওলাদার (আকাশ মাহমুদ) বলেন, উপজেলার চাঁদত্রিশিরা গ্রামে বেয়াই ও বেয়াইনের একটি অনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে ওই এলাকায় উত্তেজনার খবর পেয়ে আমরা কয়েকজন সংবাদ কর্মীরা গত ৯ আগস্ট সংবাদ সংগ্রহের জন্য ওই এলাকায় গিয়েছিলাম। তখন আমাদের সাথে ওই এলাকায় অসংখ্য নারী ও পুরুষরা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগে মামলা করেছে। তার কোন সত্যতা নেই, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। আমি প্রশাসনের উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের কাছে এই মিথ্যে মামলার সঠিক তদন্তের দাবি করছি।

সাংবাদিক আকাশ মাহমুদ বলেন, প্রকাশিত সংবাদের জেরধরে কতিপয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সাথে বিরোধের জেরধরে তারা (রাজনৈতিক নেতা) আমাকে সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য ওই নারীকে নিয়ে এ মামলা দায়ের করিয়েছেন। যার সঠিক তদন্ত করলে আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে। এ ব্যাপারে আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ মাসুদ খান জানান, আদালত থেকে একটি মামলা আসছে। আদালতের নির্দেশ অনুসারে মামলাটি এজাহারভুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয় ভূক্তভোগীর স্বামী বিগত প্রায় তিন বছর ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। বাড়িতে তার আট বছরের নাবালিকা কন্যাকে নিয়ে তিনি বসবাস করে আসছিলেন। আসামিগণ পূর্ব থেকেই বিভিন্ন সময় প্রবাসীর স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এতে রাজি না হওয়ায় আসামিরা বাদীর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে অপপ্রচারসহ নানা ক্ষতির চেষ্টা করে। পরে গত ৯ আগস্ট বিকেলে বাদী ও তার নাবালিকা কন্যা দুপুরের খাবার শেষে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় আসামিরা ঘরের দরজায় কড়া নাড়লে বাদী ঘুম থেকে উঠে পরিচয় জানতে চান। মামলার প্রধান আসামি আকাশ হাওলাদার নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে দরজা খুলতে বলে। এসময় দরজা খুলে দিলে ১ ও ২ নং আসামি জোরপূর্বক ভেতরে ঢ়ুকে পড়ে।

পরবর্তীতে আসামি আকাশ হাওলাদার গৃহবধূর মুখ চেঁপে ধরে বারান্দার খাটে শুইয়ে শ্লীলতাহানি করে এবং হত্যার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় অপর আসামিসহ অন্য অজ্ঞাতনামা সঙ্গীরা দরজায় পাহারা দেয়। বাদীর ডাক-চিৎকারে পার্শ্ববর্তী স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে আসামিরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, এ ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী আগৈলঝাড়া থানায় মামলা দায়ের করতে গেলেও থানা পুলিশ তদন্তের নামে কালক্ষেপণ করতে থাকে। পরবর্তীতে স্বজনদের পরামর্শে ভুক্তভোগী নারী বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নালিশী দরখাস্ত দাখিল করেন। আদালত নালিশী আবেদন পর্যালোচনার পর অভিযোগটি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আগৈলঝাড়া থানার ওসিকে নির্দেশ প্রদান করেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে