সেতু আছে, সংযোগ সড়ক নেই

জমি অধিগ্রহণ ছাড়াই দখলের অভিযোগ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম
জমি অধিগ্রহণ ছাড়াই দখলের অভিযোগ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ধামুরা-শোলক সড়কে সেতু নির্মাণ কাজ দেড় বছর আগে সম্পন্ন হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি আকেজো হয়ে পরে রয়েছে। সেই সংযোগ সড়ক নির্মাণকে ঘিরে উঠেছে নানা অভিযোগ। সড়কের জমি অধিগ্রহণের আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়াই ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি ব্যবহারের তোড়জোড় শুরু করেছেন উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী সুব্রত রায়।

স্থানীয় জমির মালিকদের অভিযোগ, সংযোগ সড়কের জন্য তাদের জমি প্রয়োজন হলেও এখন পর্যন্ত যথাযথভাবে জমি অধিগ্রহন ক্ষতিপূরণ প্রদান কিংবা আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়নি। ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে জমির মালিকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ৬ কোটি ৮৩ লাখ ৩৯ হাজার ৫৩৫ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি সাধারণ মানুষের কোন কাজে আসছে না। সেতুর দুইপাশে রত্নপুর সড়ক ও শোলক বাজারের সড়কের জমির মালিক আব্দুর রব হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, সেতুটি নির্মানের সময় তার জমির উপর দিয়ে সড়ক নির্মান করতে দিবেন না বলে জানালে প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেছেন, সরকারিভাবে জমি অধিগ্রহন করে নিবেন। কিন্তু সেতু নির্মান হওয়ার পর রুপ বদলে যায় প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের। জমির মালিকদের কোনো ক্ষতিপূরন দিতে রাজি নয়, উল্টো তাদের মামলা দেয়ার হুমকিসহ নানা ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে একজন প্রকৌশলী কিভাবে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ ছাড়াই ব্যবহারের উদ্যোগ নিতে পারেন? স্থানীয়রা বলছেন, উন্নয়নের নামে কারো জমি দখল করার সুযোগ নেই। সরকারি প্রকল্প হলেও জমির মালিকের অধিকার ও আইনানুগ প্রক্রিয়া মানতেই হবে।

স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, সেতু নির্মাণের সময় সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি কেন যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। যেকারনে তারা (স্থানীয়র) সংযোগ সড়ক নির্মাণের আগে প্রকল্পের নকশা, জমির দাগ-খতিয়ান, মালিকানা এবং অধিগ্রহণসংক্রান্ত সব নথি প্রকাশ্যে যাচাই করার দাবি করেছেন। পাশাপাশি জমি অধিগ্রহণ ছাড়া কোনো ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে কাজ শুরু না করার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত না করলে পরবর্তীতে জমির মালিকদের সঙ্গে বড় ধরনের বিরোধ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে এলাকাবাসি এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরেজমিনে তদন্তের দাবি জানিয়েছে।ে অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিফ না করায় তার কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে