অভাবের তাড়নায় ৩০ হাজার টাকায় সন্তানকে বিক্রি

এফএনএস (মিজানুর রহমান; চাঁদপুর) :
| আপডেট: ৩ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:৩৫ এএম | প্রকাশ: ৩ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:৩৫ এএম
অভাবের তাড়নায় ৩০ হাজার টাকায় সন্তানকে বিক্রি

চাঁদপুর শহরে আট মাসের কন্যাসন্তানকে অজ্ঞান পার্টি কর্তৃক অটোরিকশা থেকে অচেতন করে চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনার একদিনের ব্যবধানে আসল রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। সংসারে চরম অভাব-অনটনের কারণে নিজের সন্তানকে বিক্রির ঘটনাকে ‘শিশু চুরি’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করেছিলেন খোদ শিশুর মা। শহরের পূর্ব রঘুনাথপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, মূলত শিশুটিকে চুরি করা হয়নি; বরং মা-বাবার সম্মতিতে এবং আদালতের অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বিষয়টি গোপন রাখতেই এই চুরির নাটক সাজানো হয়।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে: এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) শহরের মিশন রোড এলাকায় ঘটনাটি ঘটে বলে দাবি করেছিলেন শিশুটির মা শিউলি বেগম। তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, অটোরিকশায় থাকা এক নারী তাকে পানি খাইয়ে অচেতন করে কোলে থাকা ৮ মাসের শিশু লামিহা এবং সঙ্গে থাকা ৩০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে। পরে তাকে রাস্তার পাশে অচেতন অবস্থায় ফেলে যাওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।

রহস্য উন্মোচন ও পুলিশের কাছে সত্য স্বীকার: ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে শিশুটির কথিত দত্তকগ্রহীতা ইয়াসিন আক্তার ওরফে কামরুল নিজেই চাঁদপুর সদর মডেল থানায় উপস্থিত হয়ে আসল সত্য জানান। তিনি ও তার স্ত্রী জেসমিন দীর্ঘদিন ধরে নিঃসন্তান থাকায় শিউলি বেগমের সঙ্গে সমঝোতা করেন। পরবর্তীতে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে এবং আদালতের অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে শিশুটিকে তারা নেন বলে পুলিশকে জানান এবং প্রয়োজনীয় কাগজিপত্র প্রদর্শন করেন।

পরিবারের বক্তব্য

শিশুটির মা শিউলি বেগম: তিনি জানান, তার স্বামী গত দুই মাস কোনো কাজ করছেন না। সংসারে চরম অনটন চলছে এবং শিশুদের দুধ কেনার মতো টাকাও ছিল না। বাধ্য হয়েই তিনি এই পথ বেছে নেন।

শিশুটির বাবা লিটন: তার দাবি, স্ত্রী শিউলি তাকে না জানিয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

শিশুটির নানি: তিনিও পারিবারিক অভাব-অনটনের কথা স্বীকার করে জানান, পরিস্থিতির শিকার হয়েই এমন করা হয়েছে এবং পরিবারের পক্ষ থেকে শিশুটিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।

পুলিশের বক্তব্য: চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে শিশুটির মা শিউলি ও বাবা লিটনের সম্মতিতেই শিশুটিকে ওই দম্পতির কাছে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে শিশুটি নিরাপদে রয়েছে। যেহেতু বিষয়টি পারিবারিক সমঝোতা ও আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত, তাই আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে