রাজশাহীতে ৫৫ তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপনকালে রাসিক প্রশাসক

‘সমবায়ের কার্যক্রমকে গতিশীল ও কার্যকর করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে’

এফএনএস (এস.এইচ.এম তরিকুল ইসলাম; রাজশাহী) : | প্রকাশ: ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০৫:২৬ পিএম
‘সমবায়ের কার্যক্রমকে গতিশীল ও  কার্যকর করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে’
ছবি: FNS

‘করবো সমবায়, গড়বো দেশ; সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে নগরীতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন বলেছেন, ‘দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং আত্মনির্ভরশীল সমাজ গঠনে সমবায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমবায়ের মাধ্যমে মানুষ নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি সমাজ ও দেশের উন্নয়নেও অবদান রাখতে পারে। এজন্য সমবায়ের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সমবায়ের সফল উদাহরণ হিসেবে রাসিকের সিডিসি (ঈউঈ)-এর কার্যক্রম তুলে ধরে রাসিক প্রশাসক জানান, বর্তমানে এই কার্যক্রমে প্রায় ৫৫ হাজার সদস্য সম্পৃক্ত রয়েছে এবং তাদের মূলধন খুব শীঘ্রই প্রায় ১০০ কোটি টাকায় পৌঁছাবে। এই অর্থ ও সমবায় কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে আগামী দিনে রাজশাহীতে একটি ব্যাংক গঠনের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন তিনি, যাতে ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে নগরবাসী আরও স্বাবলম্বী হতে পারে।

রবিবার (৮ নভেম্বর) সারাদেশের ন্যায় রাজশাহী নগরীতেও বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যদিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি উদ্যাপন করা হয়। এদিন সকাল সাড়ে নয়টায় রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বর হতে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। র‌্যালি শেষে পতাকা উত্তোলনের সাথে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে জাতীয় সমবায় দিবসের উদ্বোধন করেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন ও অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. রেজাউল আলম সরকার। পরে অতিথিবৃন্দ জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত সমবায় পণ্য মেলার স্টল পরিদর্শন করেন।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. রেজাউল আলম সরকার-এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য দেন, বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ের যুগ্মনিবন্ধক মো. মোখলেছুর রহমান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) বিশেষ শাখার পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম, জেলা পরিষদ প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. এরশাদ আলী ঈশা, অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক মোহা. সবুর আলী এবং জেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. আবু সাইফ প্রমুখ। 

সভায় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. রেজাউল আলম সরকার বলেন, যৌথ ও সমন্বিত প্রচেষ্টাই সমবায়ের মূল শক্তি। সমবায় কেবল আর্থিক উন্নতির মাধ্যম নয়, বরং যৌথ ও সমন্বিতভাবে যেকোনো মহৎ কাজ সফল করার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। সমবায়ের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার শিক্ষা মানুষ প্রকৃতি ও ক্ষুদ্র প্রাণী পিঁপড়া কিংবা মৌমাছির কাছ থেকেও গ্রহণ করতে পারে, কারণ তারা কখনোও একা থাকে না এবং সর্বদা ঐক্যবদ্ধ থাকে। যৌথ পরিবারে সবাই মিলেমিশে সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার যে সংস্কৃতি তা মূলত সমবায় ভিত্তিক জীবনব্যবস্থারই প্রতিফলন বলে জানান তিনি। 

তিনি আরও বলেন, সমবায়ের মাধ্যমে ক্ষুদ্র সঞ্চয় বৃহৎ মূলধনে রূপান্তরিত হয়। একজনের এক হাজার টাকা যেখানে এককভাবে বড় কোনো উদ্যোগ নিতে পারে না, সেখানে একশত জনের সমন্বয়ে তা এক লক্ষ্য টাকার কার্যকর পুঁজিতে পরিণত হয়। একা একা বড় কিছু করা সম্ভব নয়; বরং পেশাজীবী ও ব্যবসায়ীদের মতো যৌথভাবে আত্মনিয়োগ করলেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সমবায়ী, সুধীজন এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে শ্রেষ্ঠ সমবায়ীদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেওয়া হয়।