রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে এক প্রভাবশালী ভূমিদস্যুচক্র প্রশাসনের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। সরকারি খাসজমি ও পুকুর জবর-দখল করে রাখার এই অপচেষ্টায় প্রতি বছর সরকার প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় সম্প্রতি গত ১২ অক্টোবর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মীর মেজবাহীজ্জুলাম চৌধুরী সংশ্লিষ্ট হোল্ডিং বন্ধের আদেশ দেন। তবে এরপরেও দমে যায়নি চক্রটি। জমির দখল ধরে রাখতে মূল হোতা মৃত আবুল কাশেমের পুত্র আরিফ হোসেন এবার উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং সম্পত্তিটি নিজের নামে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গোদাগাড়ী উপজেলার বাসুদেবপুর ইউনিয়নের নলীগ্রাম মৌজায় আরএস খতিয়ানে ৪.৭৫ একর সরকারি ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত জমি রয়েছে। যার শ্রেণি পুকুর, ভিটা ও ডহর। বর্তমানে সেখানে অবৈধভাবে মাছ চাষ ও বিভিন্ন ফসল ফলানো হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, ভূমিদস্যু চক্রটি স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তার সাথে যোগসাজস করে মাত্র ৪৮৮ টাকা খাজনা দিয়ে ভুয়া দাখিলা সংগ্রহ করে আসছিল। কাপাসিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আরিফ হোসেন এই চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এমন ভয়াবহ জালিয়াতির কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ৪.৭৫ একর খাসজমি ও পুকুর আত্মসাতের এই জালিয়াতি প্রক্রিয়াটি শুরু হয় ১৯৮৮ সালে অতিগোপনে খাজনা দেওয়ার মাধ্যমে। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন এসিল্যান্ড জালিয়াতির হোল্ডিংটি বন্ধ করে দেন। কিন্তু রহস্যজনকভাবে, কোনো বৈধ আদেশ ছাড়াই ২০২২ সালে জালিয়াতি চক্রটি আবারও হোল্ডিং চালু করে খাজনা দেয়।
সম্প্রতি এলাকার সচেতন নাগরিক মো. হামিদুজ্জামানের আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং সরকারি স্বার্থ জড়িত থাকায় গত ১২ অক্টোবর বর্তমান এসিল্যান্ড মীর মেজবাহীজ্জুলাম চৌধুরী হোল্ডিংটি পুনরায় স্থগিতের আদেশ দেন। এরপর থেকেই বর্তমান এসিল্যান্ড ও উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানাভাবে অপপ্রচার চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে চক্রটি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আরিফ হোসেন বলেন, "উক্ত জমি ও পুকুর নিয়ে হাইকোর্টে মামলা চলছে এবং সম্পত্তিটি বর্তমানে আমাদের দখলেই আছে। মামলার রায় যদি আমাদের বিপক্ষে যায়, তবে শর্তসাপেক্ষে আমড়া দখল ছেড়ে দেব।"
এ ব্যাপারে গোদাগাড়ী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মীর মেজবাহীজ্জুলাম চৌধুরী জানান, "আইনগত প্রক্রিয়া মেনেই সরকারি সম্পত্তি রক্ষার্থে বিতর্কিত হোল্ডিংটি স্থগিত করা হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি সম্পূর্ণভাবে উদ্ধারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।" ই/তা