জনগণ গণভোটে হা-এর পক্ষে রায় দিয়েছে

এফএনএস (এইচ এম মইনুল ইসলাম; বাগেরহাট) : | প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
জনগণ গণভোটে হা-এর পক্ষে রায় দিয়েছে

বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “জনতার সাত দফা দাবি নিয়ে আমরা রাস্তায় নেমেছি। আমাদের মূল দাবি একটাই, ১২ ফেব্রুয়ারি ৭০ শতাংশ জনগণ গণভোটে হা-এর পক্ষে রায় দিয়েছে, বিএনপিকে এটা বাস্তবায়ন করতে হবে। জাতির সাথে গাদ্দারী আমরা বদ্দাস করব না। নির্বাচনের আগে বলেছেন, গনভোটে হা বিজয়ী হলে আমরা ৩৩টি দল এটা মানতে বাধ্য থাকব। হা বিজয়ী হয়েছে এটা আপনাদের মানতে হবে, ধানাই-পানাই চলবে না।গনভোটের রায় যদি বাস্তবায়ন হয়, তাহলে বাকি ৬ দফার যন্ত্রণা এদেশের জনগণকে আর ভোগ করতে হবে না। আমরা পরিস্কার বলে দিচ্ছি, ভালোয় ভালো মেনে নেন, না হলে জনগণ জানে কিভাবে দাবি আদায় করতে হয়।”শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের অংশ হিসেবে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার খুলনা-মাওয়া মহাসড়কের কাটাখালি মোড়ে অণুষ্ঠিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “দেশের মানুষ প্রমান করেছে ২০২৪ সালে কোন গুলি, বন্ধুক, কামান দাগিয়ে তাদের দমানো যাবে না। এদেশের মানুষ মুক্তির রাজপথ দেখেছে। সবাই প্রস্তুত থাকুন নব্য ফ্যাসিবাদ থেকে এদেশের মানুষকে মুক্ত করার জন্য প্রয়োজনে বুকের রক্ত দেওয়ার ঘোষনা দেন বিরোধী দলীয় এই নেতা।”পথসভায় আরও বক্তব্য দেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার, এনসিপি নেতা সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদ, বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মশিউর রহমান খান, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাত, বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা রেজাউল করিম, সেক্রেটারি ইউনুস আলী, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বাগেরহাট জেলার প্রধান সমন্বয়ক সৈয়দ মোরশেদ আনোয়ার সোহেলসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

এনসিপি নেতা সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদ বলেন, “আমরা এদেশের মানুষের মুক্তির কথা বলতে এসেছি। জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহনকারী ভাইদের কথা বলতে এসেছি। বাংলাদেশের মানুষের পকেট কেটে ১২শ টাকার গ্যাস ২৫শ টাকায় কিনতে হচ্ছে। ২ হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিল ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। দেশের মানুষ এখন মুক্তি যায়। জামায়াতের আমীরের নেতৃত্বে আমরা রাজপথে নেমেছি। বিএনপি সরকারকে বলছি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জুলাই সনদ মেনে নিন। ছাত্র-দল যুবদলের গুন্ডামি বন্ধ করুণ। বিদ্যুৎ গ্যাসের দাম কমিয়ে দিন, তা হলে ক্ষমতায় থাকতে পারবেন, না হলে পারবেন না।”

এদিকে লং মার্চ উপলক্ষে সকাল থেকেই খুলনা-মাওয়া মহাসড়কের মোল্লাহাট সেতু থেকে রুপসার কুদির বটতলা পর্যন্ত ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ভীড় ছিল। নওয়াপাড়া মোড় ও কাটাখালি মোড়ে জনতার ঢল নেমেছিল। কাটাখালির পথসভা শেষ পর্যন্ত ১১ দলীয় জোটের জনসভায় পরিনত হয়। এছাড়া নারী নেতাকর্মীর উপস্থিত ছিল চোখে পড়ার মত। মহাসড়কের পাশে নারী নেতাকর্মীরা দীর্ঘলাইন দিয়ে অপেক্ষা করছিলেন লংমার্চের গাড়ি বহরের। নওয়াপাড়া এলাকায় নারী নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ছাদখোলা গাড়িতে দাড়িয়ে বক্তব্য দেন জামায়েতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দূর্ণীতি, চাদাবাজীবন্ধসহ ৭ দফা দাবিতে ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ। এই লংমার্চ বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের উজ্জিবিত করতে. দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে এবং দূর্ণীতি, চাদাবাজীবন্ধে ভূমিকা রাখবে বলে দাবি ১১ দলীয় শীর্ষ নেতাদের। পথসভা শেষে খুলনার উদ্দেশ্যে যায় লংমার্চের গাড়ি বহর।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে