কিশোরগঞ্জে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৬৬৩ জন। এমন পরিস্থিতিতে মশক নিধন ও জনসচেতনতা বাড়াতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে মাঠে নামেন মেয়র প্রার্থী আলমগীর হোসেন সিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শফিকুল আলম শিপলু। টানা নয় দিন ধরে পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়েছেন তিনি। তার এ উদ্যোগে সম্পৃক্ত হয়েছেন শতাধিক স্বেচ্ছাসেবকেরা। এতে করে সচেতনতা বাড়ছে পৌরবাসীর মধ্যেও। জানা গেছে, গত ১৪ অক্টোবর শুরু হওয়া এ কর্মসূচি চলে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে পর্যায়ক্রমে পৌরসভার ১ থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। শুধু মশা নিধন নয়, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের সচেতন করাও ছিল এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। কর্মসূচির আওতায় গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মাতৃসদন, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, নার্সিং ইনস্টিটিউট, ডায়াবেটিস ও বক্ষব্যাধি হাসপাতাল, শিশু সদন (বালিকা), চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, জেলা জজ আদালত ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ বিভিন্ন স্থাপনার আশপাশ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন ড্রেন, ময়লা-আবর্জনাপূর্ণ স্থান, ঝোপঝাড় ও মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থলে স্প্রে ছিটানো হয়। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছর জানুয়ারি থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৬৬৩ জন। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ২ হাজার ৫১৭ জন। পৌরসভার বাসিন্দা উত্তরন সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি শফিউল আলম বলেন, এডিস মশার বিস্তার ও ডেঙ্গুতে আক্রান্তের ঘটনায় আমরা আতঙ্কিত। এমন পরিস্থিতিতে আলমগীর সিটির পক্ষ থেকে শিপলুর উদ্যোগে গত ৯দিন দিন ধরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রমতে আমরা স্বাগত জানাই। কর্মসূচির স্বেচ্ছাসেবক শোয়েব বলেন, ৯ দিনব্যাপী মশক নিধন কর্মসূচিতে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে কাজ করেছি। স্থানীয় বাসিন্দারা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। শিপলুর স্যারের উদ্যোগ দেখে অন্যরাও এগিয়ে এলে এ ধরনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কর্মসূচির উদ্যোক্তা আলমগির সিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুল আলম শিপলু বলেন, কর্মসূচিতে ১৪টি সরকারি প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করে মশক নিধন অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। এককভাবে কারও পক্ষে পৌরসভাকে ডেঙ্গুমুক্ত করা সম্ভব নয়। এজন্য সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।