সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় পাঁচ শতাধিক অতিথির জন্য ভোজের আয়োজন সম্পন্ন হয়েছিল। চলছিল ভূরিভোজ। ঠিক সেই মুহূর্তেই প্রশাসনের উপস্থিতিতে পণ্ড হয়ে গেল বাল্যবিয়ে। শুক্রবার দুপুরে তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নের গাবতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযানের খবর পেয়েই অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে নিয়ে পালিয়ে যান তার বাবা-মা। আর বরযাত্রীবাহী গাড়ি মাঝপথ থেকেই ফিরে যায়। এ ঘটনায় অপরাধ স্বীকার করায় কিশোরীর চাচাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
ভ্রাম্যমাণ আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাবতলা এলাকায় এক কিশোরীর বাল্যবিয়ের আয়োজন চলছে-এমন গোপন সংবাদ পায় জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশকে জানানো হয়। শুক্রবার দুপুরে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রতিনিধি ও স্থানীয় কিশোর-কিশোরী ক্লাবের এক শিক্ষক ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনি পদক্ষেপ নিতে গেলে উপস্থিত লোকজন তাঁদের অবরুদ্ধ করে রাখেন।
খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহেদ হোসেন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার এবং পুলিশের একটি দল যৌথভাবে সেখানে অভিযান চালায়। প্রশাসন পৌঁছানোর পর দেখা যায়, বাড়িতে আমন্ত্রিত অতিথিদের খাওয়া-দাওয়া চলছিল। ইতোমধ্যে যশোরের কেশবপুর থেকে আসা বরযাত্রীর গাড়ি কনেবাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালেও অভিযানের খবর পেয়ে পথ থেকেই ফিরে যায়।
পরবর্তীকালে কিশোরীর চাচা মো. মোনজেদ সরদার নিজের ভুল স্বীকার করে মুচলেকা দেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহেদ হোসেনের পরিচালনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার জানান, বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সামাজিক এ ব্যাধি রোধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।