শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং দলীয় সাংগঠনিক সভায় অংশ নিতে চট্টগ্রামে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে রাজশাহী থেকে সামরিক উড়োজাহাজে তিনি চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বিমানবন্দর থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নগরের রহমতগঞ্জ এলাকার জেএম সেন হল পূজামণ্ডপের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে বিকেল থেকেই নগরের কোতোয়ালি থানার জেএম সেন হল এলাকার আশপাশে ভিড় করতে থাকেন উৎসুক মানুষ। নানা বয়সী মানুষের পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীরাও সেখানে জড়ো হন। প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর যাওয়ার সময় সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তিনি।
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল প্রধানমন্ত্রীর পৌঁছানোর তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের অভ্যর্থনা জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতারা।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চট্টগ্রামে আসেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সহ-সভাপতি ও সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, বিএনপির সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ অন্যরা।
সফরসূচি অনুযায়ী, জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। এরপর চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম নগরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে রহমতগঞ্জ ও জেএম সেন হল এলাকার আশপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়।
চট্টগ্রামে পৌঁছানোর আগে মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সামরিক উড়োজাহাজে সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছে সেখান থেকে রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। পথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীরে দুটি পথসভায় অংশ নেন। পরে রংপুরের রাধাগোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।
এরপর বিকেল ২টা ৫৫ মিনিটে সামরিক উড়োজাহাজে রাজশাহীতে পৌঁছান তারেক রহমান। সেখানে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দেন তিনি। জনসভায় ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
রাজশাহীর কর্মসূচির অংশ হিসেবে ধর্মসভা মন্দিরের দুর্গাপূজার মণ্ডপও পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।
চট্টগ্রামের কর্মসূচি শেষে মঙ্গলবার রাতেই বিমানযোগে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে তাঁর।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ৯ আগস্ট প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সফর করেন তারেক রহমান। ওই সফরে তিনি বাঁশখালী, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন।