চাঁদপুরের কচুয়ার ঐতিহ্যবাহী ইসলামিয়া ইব্রাহিমিয়া উজানী মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস ও বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা মিজানুর রহমান আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে উজানী মাদরাসা প্রাঙ্গণে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় হাজার হাজার আলেম-ওলামা, শিক্ষার্থী, ভক্ত ও স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নেন। এর আগে রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই বরেণ্য আলেমে দ্বীন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও তিন মেয়েসহ অসংখ্য ছাত্র, ভক্ত ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। জানা গেছে, ইন্তেকালের দিন রাতে কচুয়া উপজেলার ধামালুয়া গ্রামে একটি ইসলামী মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে বয়ান করেন মাওলানা মিজানুর রহমান। মাহফিল শেষে বাড়ি ফিরে তিনি হঠাৎ অসুস্থ বোধ করেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে দ্বীনি অঙ্গনসহ গোটা কচুয়া এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। সোমবার দুপুরে উজানী মাদরাসা মাঠে মরহুমের জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়। প্রিয় উস্তাদ ও দ্বীনি অভিভাবককে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে চাঁদপুর জেলা ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, আলেম-ওলামা ও সাধারণ মানুষ। জানাজাপূর্ব স্মৃতিচারণে মরহুমের সহকর্মী ও বিশিষ্ট আলেমগণ তাঁর দ্বীনি খেদমতের কথা স্মরণ করেন। এ সময় এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং অনেককে অশ্রুসিক্ত নয়নে শেষ বিদায় জানাতে দেখা যায়। শিক্ষামন্ত্রীর শোকপ্রকাশ: কচুয়ার বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা মিজানুর রহমানের আকস্মিক ইন্তেকালে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী এবং চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনের সংসদ সদস্য আ ন ম এহসানুল হক মিলন। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, "মাওলানা মিজানুর রহমান ছিলেন দ্বীনি শিক্ষা প্রচার ও প্রসারে একজন নিবেদিতপ্রাণ আলেম। দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে উজানী মাদরাসায় হাদিসের শিক্ষকতা ও ইসলামের সঠিক বাণী প্রচারে তাঁর অবদান শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কচুয়াবাসী শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখবে। তাঁর ইন্তেকালে ইসলামি শিক্ষাঙ্গনে যে অপূরণীয় ক্ষতি হলো তা সহজে পূরণ হবার নয়।" শিক্ষামন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, শিক্ষার্থী ও গুণগ্রাহীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। সংক্ষিপ্ত জীবন ও কর্ম: মাওলানা মিজানুর রহমান চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার রাজাপুর চিড়াইও গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। কওমি শিক্ষা সমাপনী শেষে তিনি দেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইসলামিয়া ইব্রাহিমিয়া উজানী মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে হাদিসের দরস প্রদান করে আসছিলেন। পাশাপাশি একজন সুবক্তা হিসেবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কুরআন ও হাদিসের দাওয়াত পৌঁছে দিয়েছেন।