সিরাজদিখানে জমি ভরাট, কমছে ফসলী জমি

এফএনএস (কে. এন. ইসলাম বাবুল; সিরাজদিখান, মুন্সীগঞ্জ) : | প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
সিরাজদিখানে জমি ভরাট, কমছে ফসলী জমি

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে তিন ফসলী জমিসহ সরকারি (অর্পিত) সম্পত্তি ভরাট বাণিজ্য চলছে। এতে করে কমছে ফসলী জমি, বাড়ছে ভূমির শ্রেণি বদলে জটিলতা। প্রশাসন বলছে অভিযান চলমান আছে, সরকারী লিজকৃতদের প্রমাণ সাপেক্ষে লিজ বাতিল করা হবে। উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নে কমবেশি এমন ঘটনা দৃশ্যমান রয়েছে। তবে কেয়াইন, বয়রাগাদী, মালখানগর ও মধ্যপাড়া ইউনিয়ে দেখাযায় মাঝে মাঝে অভিযান চললেও আবার দিনে ও রাতে চলছে ভরাট বাণিজ্য।  

বয়রাগাদি ইউনিয়নের গোবরদি মৌজায় ভিপি  (অর্পিত) কেইসের লিজকৃত কৃষি জমি বালু ভরাট হয়েছে, যার ভিপি কেইস নং ২০৮/৭৩ এস, এ দাগ নং ১৩৭৫-১৩৭৬। জমির পরিমান ৩২ শতাংশ। একই মৌজার ভিপি (অর্পিত) কেইস নং ৭৬৮/৬৮  এর কৃষি জমি ভরাট চলছে। এছাড়া ব্যক্তি মালিকানাধীন অনেক কৃষি জমি বিনা অনুমতিতে অবৈধ ভাবে ভরাট করে শ্রেণী পরিবর্তন করেছেন অনেকেই এবং আরো চলমান আছে। জানা যায়, গত বছরও উক্ত মৌজার প্রায় এক বিঘা কৃষি জমি ভিপি (অর্পিত) সম্পত্তি ভরাট করে শ্রেণি পরিবর্তন করা হয়েছে, কিন্তু প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নেয় নাই। পাশাপাশি মালখানগর ইউনিয়নের তালতলা বাজার থেকে নাটেশ্বর পর্যন্ত দিনের বেলায় নদীর পাড়ে বেশ কয়েকটি বালু আনলোড ড্রেজার নোঙ্গর করে রেখে রাতের বেলায় বাল্কহেট থেকে বালু আনলোড করে ভরাট করা হচ্ছে সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন কৃষি জমি এবং জলাশয়।  সুশিল সমাজের অনেকে জানান, ভরাটের কারণে দিন দিন তিন ফসলী জমি কমে যাচ্ছে, কৃষি শস্য উৎপাদন ব্যহত ও জলাশয় ভরাটের কারনে মাছসহ পরিবেশের ব্যপক ক্ষতি হচ্ছে।

বয়রাগাদি, মালখানগর ও মধ্যপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে একশ্রেণীর প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বর্ষার শুরুতে কৃষি জমি ভরাটের প্রস্তুতি নেয়, এবং কোন না কোন ভাবে দলীয় প্রভাব ও প্রশাসন কে ম্যানেজ করে সে সমস্ত জমি ভরাট করে নেয়। 

অনেকে বলেন, ভিপি  (অর্পিত) কেইসের সরকারি সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্ব ইউএনও, এসিল্যান্ড ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। তাদের চোখের সামনে বিনা অনুমতিতে চলছে অবৈধ ভরাট বাণিজ্য, আবার কোথাও মাদরাসা ও কবরস্থানের নাম দিয়ে চলছে কৃষিজমি ও জলাশয় ভরাটের কাজ। গত দুই সপ্তাহ আগে বয়রাগাদি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার মো.  ইব্রাহিম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারি সম্পত্তি ও কৃষি জমি ভরাটের বিষয়ে আমি জানিনা, এইমাত্র আপনার কাছ থেকে শুনলাম, খোঁজ নিয়ে ইউএনও এবং এসিল্যান্ড স্যার কে জানাবো। 

মালখানগর ইউনিয়নের ভূমি অফিসের নায়েব সারফিন ঢালী বলেন, মালখানানগর এলাকার যতগুলি কৃষি জমি ও খাল বিল ভরাটের প্রস্তুতি নিচ্ছে আমি খোঁজ নিয়ে সাথে সাথে সেগুলির ছবি তুলে ও  ড্রেজারের পাইপলাইনের ছবি তুলে ইউএনও স্যারকে পাঠিয়ে অবগত করছি।  এ বিষয়ে সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী অফিসার  রুম্পা ঘোষ  বলেন  সরকারি ভিপি (অর্পিত) কৃষি জমি  ভরাট হচ্ছে আমি জানতাম না এইমাত্র আপনার কাছ থেকে জানলাম আমি ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিব এবং লিজ বাতিল করে দেব।  উপজেলায় নিয়মিতভাবে ড্রেজারের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট করে বালু ভরাটের পাইপ ও আনলোড ড্রেজার বিধ্বংস ও জরিমানা করছি এবং আমরা যখন অভিযানে যাই তখন স্পটে কোন লোক পাওয়া যায় না এবং আনলোড ড্রেজার গুলি নদী থেকে সরিয়ে ফেলা হয় ।   এ বিষয়ে আইনজীবীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রচলিত ভূমি ও পরিবেশ আইন অনুযায়ী, লিজের শর্ত ভঙ্গ করে বা অনুমতি ছাড়া কৃষি জমির শ্রেণী পরিবর্তন বা বালু ভরাট করলে কঠোর আইনি প্রতিকার ও শাস্তির বিধান রয়েছে। যেমন 

ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ (ধারা ১৩): এই আইন অনুযায়ী, জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া আবাদযোগ্য কৃষি জমির উপরি-স্তর কর্তন বা বালু/মাটি দ্বারা ভরাট করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এই অপরাধের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তি অনধিক ২ (দুই) বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। একই সাথে জমিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। লিজ বা ডিসিআর (উঈজ) বাতিল ভিপি বা অর্পিত সম্পত্তি লিজ দেওয়ার প্রধান শর্তই থাকে যে, জমির শ্রেণী পরিবর্তন করা যাবে না। বালু ভরাট করে শ্রেণী পরিবর্তন করলে সরকার তাৎক্ষণিকভাবে ওই লিজ বাতিল করে জমি সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিতে পারে এবং ভরাটকৃত বালু জব্দ করে বালু অপসারণের মাধ্যমে জমির আগের শ্রেণী ফিরিয়ে আনতে পারেন।।।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে