খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষীছড়ি উপজেলায় লজ্জাবতী বানর (ঝষড়ি খড়ৎরং) উদ্ধার করেছে স্থানীয় বনবিভাগ। বুধবার সন্ধ্যায় বন বিভাগে খবর আসে লক্ষীছড়ি থানা সংলগ্ন মইনুল হোসেন এর দোকানের টিনের চাল থেকে একটি লজ্জাবতী বানর দেখা গেছে। খবর পেয়ে বনবিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিরল প্রজাতীর এই লজ্জাবতী বানরটি উদ্ধার করে উপজেলা চত্তরে নিয়ে আসে। পরে রাতেই পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে অবমুক্ত করা হয়। এসময় লক্ষ্ণীছড়ি প্রেসক্লাব সভাপতি মো: মোবারক হোসেন, সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সুমনা চাকমা,ইউপি সদস্য জয়া চাকমাসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
লক্ষ্ণীছড়ি বন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা এস এম সাইফুর রহমান জানান, রাঙ্গামাটি অশ্রেনীভুক্ত বনাঞ্চল বণীকরণ বিভাগীয় বন কর্মকর্তার পরামর্শক্রমে উদ্ধারকৃত লজ্জাবতী বানরটি বনে অবমুক্ত করা হয়।
লজ্জাবতী বানরের বৈজ্ঞানিক নাম ঘুপঃরপবনঁং নবহমধষবহংরং (এটি সাধারণত 'বাংলা লজ্জাবতী বানর' নামে পরিচিত)। এরা লজ্জাবতী বানর প্রজাতির মধ্যে সবচেয়ে বড় আকৃতির হয়। দৈর্ঘ্য সাধারণত ২৬-৩৮ সেন্টিমিটার এবং ওজন ১ থেকে ২.১ কেজির মধ্যে হয়ে থাকে। এদের চোখগুলো বড়, গোলাকার ও জ্বলজ্বলে। মাথায় ও পিঠের ওপর একটি গাঢ় বাদামি রঙের দাগ বা রেখা থাকে। স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে লজ্জাবতী বানর অন্যতম বিষাক্ত প্রাণী। এদের কনুইয়ের গ্রন্থি (ইৎধপযরধষ মষধহফ) থেকে এক ধরনের তৈলাক্ত পদার্থ নিঃসৃত হয়, যা লালার সাথে মিশে বিষাক্ত যৌগে পরিণত হয়। আত্মরক্ষার জন্য এরা এই বিষ কামড়ের মাধ্যমে শত্রুর গায়ে ছড়িয়ে দেয়।