সৈয়দপুরে অস্বাভাবিক মুরগির দাম বৃদ্ধি চাপে ক্রেতা

এফএনএস (ওবায়দুল ইসলাম; সৈয়দপুর, নীলফামারী) : | প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম
সৈয়দপুরে অস্বাভাবিক মুরগির দাম বৃদ্ধি চাপে ক্রেতা

নীলফামারীর সৈয়দপুরে বেড়ে গেছে মুরগির দাম। গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বাজারে চড়া দামে মুরগি বিক্রি হলেও কমার কোনো লক্ষণ নেই। প্রকারভেদে কেজিতে ৭০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম অসন্তোষ। অনেকেই আগের তুলনায় মুরগি কেনার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন।

সৈয়দপুরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক কেজি ওজনের দেশি মুরগি আগে বিক্রি হয়েছে প্রায় ৩৫০ টাকায়। বর্তমানে একই মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ কেজিতে বেড়েছে প্রায় ২০০ টাকা। এদিকে সোনালি মুরগির দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগে প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ২৮০ থেকে ২৯০ টাকা হয়েছে। আর আসল সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩৫০ টাকা কেজি দরে।

বাজারে বয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, টার্কি মুরগি প্রায় ৩৫০ টাকা এবং পাকিস্তানি মুরগিও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের আমিষের অন্যতম প্রধান উৎস মুরগির মাংস এখন অনেক পরিবারের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দাম বৃদ্ধির মধ্যে মুরগির দামও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। আগে যেসব পরিবার সপ্তাহে একাধিকবার মুরগির মাংস কিনত, তাদের অনেকেই এখন হিসাব করে কিনছেন। কেউ কেউ মুরগির পরিবর্তে তুলনামূলক কম দামের খাবারের দিকে ঝুঁকছেন।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুধু বাজারে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে মুরগির দাম বাড়েনি। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়াই এর অন্যতম প্রধান কারণ। মুরগির খাদ্য, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়ার কারণে খামারিরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন। মুরগি ব্যবসায়ী সমিতির এক নেতা জানান, মুরগির খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। একই সঙ্গে শ্রমিকের মজুরি ও খামার পরিচালনার অন্যান্য ব্যয়ও বেড়েছে। বৈরী আবহাওয়ায় অনেক খামারি মুরগি উৎপাদন করে লোকসান গুনেছেন। লোকসান সামলাতে না পেরে অনেকেই খামার বন্ধ করে দিয়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন।

তিনি বলেন,একদিকে উৎপাদন খরচ বেড়েছে, অন্যদিকে অনেক খামার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহও কমেছে। ফলে এখনই মুরগির দাম কমার তেমন কোনো সুযোগ দেখা যাচ্ছে না।

খামারিদের মতে, উৎপাদন খরচ কমানো না গেলে মুরগির বাজার স্বাভাবিক করা কঠিন হবে। বিশেষ করে মুরগির খাদ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে আনা, খামারিদের সহজ শর্তে ঋণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া গেলে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে। সচেতন মহলের মতে, মুরগির দাম এভাবে দীর্ঘদিন চড়া থাকলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের খাদ্যতালিকায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে