সৈয়দপুরে চিপ কারখানায় অভিযানের দাবি সচেতন মহলের

এফএনএস (ওবায়দুল ইসলাম; সৈয়দপুর, নীলফামারী) : | প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০২:২৪ পিএম
সৈয়দপুরে চিপ কারখানায় অভিযানের দাবি সচেতন মহলের

নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের মিস্ত্রীপাড়া মহল্লায় দীর্ঘদিন ধরে মঈন চিপ কারখানায় নানা ধরনের চিপসহ শিশুদের খাদ্যসামগ্রী তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কারখানাটিতে খাদ্য উৎপাদনে স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতার নিয়ম যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের দাবি, কারখানাটিতে ভেজাল ও ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহারের অভিযোগ তদন্তে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হোক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানাটিতে বিভিন্ন ধরনের চিপসহ শিশুদের আকৃষ্ট করতে রং মেশানো খাদ্যসামগ্রী তৈরি করা হয়। উৎপাদিত এসব খাদ্যসামগ্রীর কাঁচামাল ও প্রস্তুত পণ্য সংরক্ষণেও যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হয় না। কারখানার চাতাল, খোলা জায়গায় ধুলাবালি ও ময়লার মধ্যে খাদ্যসামগ্রী রোদে শুকানোর অভিযোগ রয়েছে। এতে উৎপাদিত খাদ্যসামগ্রী সহজেই ধুলা-ময়লা ও জীবাণুর সংস্পর্শে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও যথাযথ নজরদারি নেই। খাদ্য উৎপাদন ও প্যাকেটজাত করার ক্ষেত্রে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, হাত পরিষ্কার রাখা এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা পোশাক ব্যবহারের বিষয়গুলোও যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না ।

এদিকে কারখানা থেকে পণ্য পরিবহনের জন্য গাড়িতে খাদ্যসামগ্রী তোলার সময়ও স্বাস্থ্যসম্মত নিয়ম মানা হয় না বলে অভিযোগ উঠেছে। খোলা অবস্থায় বা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে পণ্য পরিবহন করা হলে খাদ্যের মান ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে।

স্থানীয় অনেকের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে কারখানাটিতে শিশুদের জন্য বিভিন্ন ধরনের খাদ্যসামগ্রী উৎপাদন করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি চোখে পড়েনি। বিশেষ করে শিশুদের খাদ্যসামগ্রী তৈরির ক্ষেত্রে মান, উপকরণ, রং ও উৎপাদন পরিবেশের বিষয়টি কঠোরভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন। সচেতন মানুষের দাবি, মঈন চিপ কারখানায় দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করে উৎপাদিত খাদ্যসামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হোক। একই সঙ্গে কারখানাটির প্রয়োজনীয় লাইসেন্স, খাদ্য উৎপাদনের অনুমোদন, বিএসটিআইয়ের অনুমোদন/সনদ এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাদের মতে, শিশুদের খাদ্য নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ভেজালের অভিযোগ থাকলে তা কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হলে একদিকে ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে, অন্যদিকে খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখতে বাধ্য হবে। শুধু মঈন চিপ কারখানা নয়,সৈয়দপুর শহরে ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে তোলা হয়েছে শিশু খাদ্য তৈরির শতাধিক কারখানা। বলা চলে সৈয়দপুরে ঘরে ঘরে এখন খাদ্য তৈরির কারখানা। নকল লেবেল,প্যাকেট,কর্ক,সবেই তৈরি হচ্ছে সৈয়দপুরে। প্যাকেটের গায়ে লেখা হচ্ছে ঢাকা বাংলাদেশ। চেনার কোন উপায় নেই এটি ঢাকার না সৈয়দপুরের তৈরি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে