কৃষ্ণচূড়া ফুলের নয়নাভিরাম দৃশ্যে ছেয়ে গেছে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলা প্রশাসন স্কুল এন্ড কলেজ। গ্রীষ্মের আবির রঙে রাঙিয়ে পুরো বিদ্যাপীঠ যেনো কৃষ্ণচূড়ার লাল টুকটুকে আভায় রাঙানো। নাগেশ্বরী উপজেলা প্রশাসসন সংলগ্ন এই বিদ্যালয়ের মূল ফটকে যেতেই মন কেড়ে নেয় নয়নাভিরাম এই অপরূপ দৃশ্য। দূর থেকে দেখলে মনে হয় সূর্যের সবটুকু উত্তাপ কেড়ে নিয়েছে টুকটুকে লাল এ কৃষ্ণচূড়া। যেনো ফাগুনের আগুন লেগেছে সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গনেই অনিন্দ্য সৌন্দর্যে ভরপুর কয়েকটি কৃষ্ণচূড়া গাছের শাখায় শাখায় রক্তবর্ণ ফুলের সমাহার নিমিষেই পুলকিত করে শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের মন। শুধু শিক্ষক-শিক্ষার্থীই নয় কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম সৌন্দর্য হৃদয় কাড়ে অভিভাবক ও পথচারীসহ স্থানীদের। জীবনের রুক্ষতা আর ভ্যাপসা গরমে ক্যাম্পাসের এ কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে বসে এক প্রশান্তির নিঃশ্বাস ফেলে শিক্ষার্থীরা। আবার বৈশাখের মেঘলা আকাশ থেকে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি কৃষ্ণচূড়া ফুল বেয়ে টিপটিপ করে পড়া পানির আলতো ছোঁয়ায় ফিরে আসে স্বস্থির নিঃশ্বাস। সকালের স্নিগ্ধ হাওয়ায় ক্যাম্পাসে ঝরে পড়া কৃষ্ণচূড়ার রক্তলাল পাপড়ি বিছিয়ে দেয় লাল গালিচা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ের সামনে দুইটি আর মাঠের উত্তরদিকের তিনটি গাছে ফুটেছে কৃষ্ণচূড়ার ফুল। এছাড়াও ভবনের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে রাস্তার পাশের আরও দুইটি গাছে ফোটা কৃষ্ণচূড়ার রক্তলাল সৌন্দর্য পথিকের মাঝেও এনে দেয় অন্যরকম এক প্রশান্তি। শুধু কী তাই! গ্রীষ্মের দাবদাহে পিপাসার্ত ক্লান্ত পথিক কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে থমকে দাঁড়ায়, ভুলে যায় পিপাসা। এ যেন কৃষ্ণচূড়ার ক্যাম্পাস। এসব গাছে বৈশাখের শুরুতে ফুল ফুটতে শুরু করে। সবুজ পাতার মধ্যে লাল, এ যেন জীবন্ত বৈচিত্র্য।
প্রতিবারের মতো এবারও রক্তিম কৃষ্ণচূড়ার তলায় বসে সহপাঠিদের নিয়ে চলে আড্ডা আর স্মৃতিমন্থন। শিক্ষার্থী রিফাহ তাসফিয়া রীদি জানায় কৃষ্ণচূড়ার লাল রঙে রাঙানো বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে প্রবেশ করলে মনের ভেতর একটা আলাদা অনুভূঁকি কাজ করে। এমন নজরকাড়া দৃশ্য দেখে মন খারাপিতেও মন ভালো হয়ে যায় নিমিষেই। ফাহিম ফয়সাল ত্বাসিন, বৃত্ত, ছাড়া, স্নেহা, নিঝুম নামের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায় কৃষ্ণচূড়ার আবির মাখা রঙ পুলকিত করে তাদের মনকে। ফুলের সৌন্দর্যে মন ভরে যায় আর তাই পড়াশোনাতেও মন বসে নির্দ্বিধায়।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক বলেন, ফুল মানুষের মনকে প্রফুল্ল করে। কচিকাচা শিশুরা তাদের জীবনকে যেনো ফুলের মতোই গড়ে তুলতে পারে এ প্রত্যয়ে বিদ্যালয়টিকে সাজাতে চেষ্টা করেছি। আমাদের বিদ্যালয়ে শুধু ফুলই নয়, ফলজ, বনজ ও ওষুধিসহ বিভিন্ন প্রজাতীর গাছ রয়েছে। যা এই বিদ্যালয়টিকে এনে দিয়েছে বাড়তি সৌন্দর্য।