কক্সবাজারের মহেশখালীতে ঝড়ের কবলে পড়ে মাছ ধরার ট্রলার ডুবে দুই জেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুই জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। স্থানীয় জেলেরা চারজনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ভোর ৩টার দিকে নাজিরারটেক উপকূলের কাছে সোনাদিয়া চ্যানেলের পশ্চিমে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দুই জেলে হলেন মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের খোন্দকারপাড়া এলাকার মৃত মোক্তল হোসেনের ছেলে ফয়েজ আহমেদ এবং একই ইউনিয়নের মেহেরিয়াপাড়া এলাকার সোহাগ মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম। নিখোঁজ দুজন হলেন একই এলাকার নুরুল আলম ও মুহিব উল্লাহ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুতুবজোম এলাকার ফরিদুল আলমের মালিকানাধীন ‘এফবি তাহসিন’ নামের মাছ ধরার ট্রলারটি মঙ্গলবার রাতে কয়েকজন জেলেকে নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যায়। বৃহস্পতিবার ভোররাতে নাজিরারটেক উপকূলের কাছে সোনাদিয়া চ্যানেলের পশ্চিমে পৌঁছালে হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি উল্টে যায় এবং ডুবে যায়।
দুর্ঘটনার পর আশপাশে থাকা জেলেরা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। একপর্যায়ে ফয়েজ আহমেদ ও সাইফুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। চারজন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে নুরুল আলম ও মুহিব উল্লাহর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ দুই জেলেকে উদ্ধারে স্থানীয় জেলেরা সাগরে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
মহেশখালী থানার ওসি আব্দুস সালাম জানান, ভোর ৩টার দিকে সোনাদিয়া চ্যানেলের পশ্চিমে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। কয়েকজন জেলে নিরাপদে উঠতে পারলেও চারজন নিখোঁজ ছিলেন। পরে তাঁদের মধ্যে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নুরুল আলম ও মুহিব উল্লাহ নিখোঁজ রয়েছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী দিদারুল ইসলাম রুবেল জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর আশপাশের জেলেরা নৌকা নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। তাঁদের তৎপরতায় কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে নিখোঁজ দুই জেলের সন্ধান এখনো মেলেনি।
কক্সবাজার ফিশিং বোট মালিক সমিতির সভাপতি দেলোয়ার হোসেনও জানান, ‘এফবি তাহসিন’ ট্রলারটি মঙ্গলবার রাতে সাগরে মাছ ধরতে যায়। বৃহস্পতিবার ভোররাতে নাজিরারটেক উপকূলের কাছাকাছি ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি উল্টে যায়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় জেলেদের পাশাপাশি পুলিশের দলও ঘটনাস্থলে গেছে। নিখোঁজ নুরুল আলম ও মুহিব উল্লাহকে উদ্ধারে স্থানীয় জেলেদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।