চট্টগ্রামের ছোটখাটো এক মন্ত্রীর ইন্ধনে সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি বানচালের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী। মিরসরাই উপজেলা থেকে দুই অস্ত্রধারী যুবককে সীতাকুণ্ডে আনা হয়েছিল দাবি করে তিনি বলেন, তাদের অস্ত্রের মহড়ার ভিডিও ফুটেজ তার হাতে রয়েছে। ওই ফুটেজ দেখে অস্ত্রধারীদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মঙ্গলবার সীতাকুণ্ড উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসলাম চৌধুরী এসব অভিযোগ করেন।
আসলাম চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামের ছোটখাটো এক মন্ত্রীর ইন্ধনেই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি বানচালের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তিনি ওই মন্ত্রীর নাম প্রকাশ করেননি। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা কেউ এ ঘটনায় জড়িত থাকলে তাকেও চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দলের হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
পুলিশের উদ্দেশে তিনি বলেন, মিরসরাই থেকে দুই অস্ত্রধারী যুবককে সীতাকুণ্ডে আনা হয়েছে। তাদের অস্ত্রের মহড়ার ভিডিও ফুটেজ তার হাতে রয়েছে। ভিডিও যাচাই করে দ্রুত অস্ত্রধারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
এর আগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সীতাকুণ্ডে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ এবং প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে অস্ত্র হাতে যুবকদের দেখা যায়।
সমাবেশে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আসলাম চৌধুরী। মাদক কারবারিদের সঙ্গে পুলিশের কথিত যোগসাজশের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, পুলিশ যদি ইয়াবা কারবারিদের থেকে গরু খায়, তাহলে পুলিশ কীভাবে ব্যবস্থা নেবে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে অস্ত্র প্রদর্শন ও সহিংসতায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।