১২ কেজি এলপিজির দাম কমল ১৩ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদন | প্রকাশ: ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:০২ পিএম
১২ কেজি এলপিজির দাম কমল ১৩ টাকা
ছবি: সংগ্রহীত

সেপ্টেম্বর মাসের জন্য তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা করা হয়েছে। এতদিন এই সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৫৯৮ টাকায়।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নতুন দাম ঘোষণা করা হয়। নির্ধারিত দর বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।

সেপ্টেম্বরের জন্য বেসরকারি এলপিজির খুচরা দাম মূসকসহ প্রতি কেজি ১৩২ টাকা ১২ পয়সা নির্ধারণ করেছে বিইআরসি। আগস্টে প্রতি কেজির দাম ছিল ১৩৩ টাকা ১৫ পয়সা। অর্থাৎ কেজিতে দাম কমেছে ১ টাকা ৩ পয়সা।

নতুন দরে ৫ দশমিক ৫ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৭২৭ টাকা, ১২ দশমিক ৫ কেজির ১ হাজার ৬৫২ টাকা এবং ১৫ কেজির ১ হাজার ৯৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৬ কেজির দাম ২ হাজার ১১৪ টাকা, ১৮ কেজির ২ হাজার ৩৭৮ টাকা, ২০ কেজির ২ হাজার ৬৪২ টাকা এবং ২২ কেজির ২ হাজার ৯০৭ টাকা।

এ ছাড়া ২৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৩ হাজার ৩০৩ টাকা, ৩০ কেজির ৩ হাজার ৯৬৪ টাকা, ৩৩ কেজির ৪ হাজার ৩৬০ টাকা, ৩৫ কেজির ৪ হাজার ৬২৪ টাকা এবং ৪৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৫ হাজার ৯৪৫ টাকা করা হয়েছে।

যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও কমানো হয়েছে। প্রতি লিটারে ৫৮ পয়সা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৩ টাকা ৯ পয়সা।

রেটিকুলেটেড পদ্ধতিতে তরল অবস্থায় সরবরাহ করা বেসরকারি এলপিজির মূসকসহ দাম প্রতি কেজি ১২৮ টাকা ৩৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই পদ্ধতিতে গ্যাসীয় অবস্থায় সরবরাহ করা এলপিজির দাম প্রতি লিটার শূন্য দশমিক ২৮ টাকা বা প্রতি ঘনমিটার ২৮৫ টাকা ৩০ পয়সা করা হয়েছে।

বিইআরসি জানিয়েছে, সৌদি আরামকোর সেপ্টেম্বর মাসের প্রোপেন ও বিউটেনের সৌদি কনট্রাক্ট প্রাইস বা সৌদি সিপির ভিত্তিতে নতুন দর সমন্বয় করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে প্রোপেনের সৌদি সিপি প্রতি মেট্রিক টন ৬২৫ ডলার এবং বিউটেনের ৬৬০ ডলার। প্রোপেন ও বিউটেনের অনুপাত ৩৫:৬৫ ধরে গড় সৌদি সিপি প্রতি মেট্রিক টন ৬৪৭ দশমিক ৭৫ ডলার বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

আগস্টে প্রোপেনের সৌদি সিপি ছিল প্রতি মেট্রিক টন ৬২০ ডলার এবং বিউটেনের ৬৪০ ডলার। ওই মাসে গড় সৌদি সিপি ধরা হয়েছিল ৬৩৩ ডলার। সে হিসাবে সেপ্টেম্বরে গড় সৌদি সিপি প্রতি মেট্রিক টনে ১৪ দশমিক ৭৫ ডলার বেড়েছে।

তবে সেপ্টেম্বরের মূল্য সমন্বয়ের সময় এলপিজি আমদানিতে জাহাজভাড়া ও ব্যবসায়ীর প্রিমিয়াম প্রতি মেট্রিক টন ১৬০ ডলার এবং প্রতি ডলারের গড় বিনিময় মূল্য ১২৩ টাকা ৩০ পয়সা বিবেচনায় নিয়েছে বিইআরসি। আগস্টে জাহাজভাড়া ও ব্যবসায়ীর প্রিমিয়াম ধরা হয়েছিল প্রতি মেট্রিক টন ১৮০ ডলার। তখন প্রতি ডলারের গড় বিনিময় মূল্য ছিল ১২৩ টাকা ৬৯ পয়সা।

সরকারি এলপিজির দাম এবারও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ১২ দশমিক ৫ কেজির সরকারি এলপিজি সিলিন্ডারের ভোক্তা পর্যায়ের দাম ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সা বহাল থাকবে।

এর আগে আগস্ট মাসের জন্য ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৭০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৫৯৮ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। জুলাইয়ে এই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫২৮ টাকা। ফলে আগস্টে বাড়ানোর পর সেপ্টেম্বরে ১৩ টাকা কমলেও জুলাইয়ের তুলনায় ১২ কেজির সিলিন্ডারে এখনো ৫৭ টাকা বেশি দিতে হবে।

এর আগে এপ্রিল মাসে এলপিজির দামে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছিল। ২ এপ্রিল ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা করা হয়। পরে ১৯ এপ্রিল আরও ২১২ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৯৪০ টাকা। অর্থাৎ এপ্রিলের দুই দফায় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম মোট ৫৯৯ টাকা বেড়েছিল।

এরপর জুনে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৫৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা করা হয়। জুলাইয়ে আরও ৩৫৭ টাকা কমিয়ে দাম ১ হাজার ৫২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আগস্টে আবার ৭০ টাকা বাড়ানোর পর সেপ্টেম্বরে কমল ১৩ টাকা।

বিইআরসি জানিয়েছে, ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে সৌদি সিপি ও ডলারের বিনিময় হারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির মূল্য ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয়ের ভিত্তিতে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়।

নির্ধারিত দামের বিষয়ে কমিশন সতর্ক করে জানিয়েছে, এলপিজি মজুত ও বোতলজাতকরণ, পরিবেশক এবং খুচরা বিক্রেতাসহ কোনো পর্যায়েই কমিশন নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বোতলজাত এলপিজি, রেটিকুলেটেড এলপিজি বা অটোগ্যাস বিক্রি করা যাবে না।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে