চাঁদপুর থিয়েটার ফোরাম আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী নাট্যোৎসবের পর্দা নামছে আজ। উৎসবের সমাপনী দিনে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর,২০২৬) সন্ধ্যায় চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মঞ্চে অনন্যা নাট্যগোষ্ঠীর পরিবেশনায় মঞ্চস্থ হবে সৃজনশীল নাটক ‘জলরুপালী’। জসীম মেহেদীর রচনায় ও নির্দেশনায় নাটকটির এটি দ্বিতীয় মঞ্চায়ন।
নদীমাতৃক জেলা ও ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরের বাস্তব প্রেক্ষাপট এবং সত্যমূলক ঘটনার ওপর ভিত্তি করে নাটকটি রচিত হয়েছে। দেশজ নাট্যরীতির আঙিকে নিজস্ব সৃজনশীলতার ছোঁয়ায় নাটকটিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সমাজের চিরন্তন চিত্র। ইলিশ সম্পদ রক্ষায় সরকারের নিষেধাজ্ঞা-বিশেষ করে বছরে ২২ দিন ও দুই মাস নদীতে ইলিশ শিকার বন্ধ থাকার সময়কার বাস্তবতা নিয়েই এই সচেতনতামূলক নাটক। এতে কর্মহীন হয়ে পড়া জেলেদের জীবনসংগ্রাম, অসাধু ব্যবসায়ী চক্র এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, কোস্ট গার্ড ও নৌ পুলিশের ভূমিকা নিখুঁতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। মঞ্চে শিল্পীদের অভিনয় নিছক বিনোদন নয়, বরং আমাদের সমাজেরই প্রতিদিনের জীবন্ত চিত্র।
নাটকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন শহীদ পাটোয়ারী, আয়শা সিদ্দিকী আভা, মোঃ আলমগীর হোসেন পাটওয়ারী, সীমা ইসলাম, জসীম মেহেদী, আখলাকুল ইসলাম, মানিক দাস, কামরুল ইসলাম, দীপক ভট্টাচার্য, শরীফুল ইসলাম, দুলাল সরকার, নজরুল ইসলাম, প্রান্তিক দাস, শাহরিয়ার আবির, হাসিবুর রহমান, জিহাদ, মোঃ আল রাফি এবং মোঃ আফনান আলিফ। নাটকের গায়েন চরিত্রে কন্ঠ দিয়েছেন ফাতেমাতুজ জোহরা ও হৃদয় কর্মকার। কোরাস দলে রয়েছেন শাহরিয়ার আবির, প্রান্তিক দাস, রোহান পাটওয়ারী, মহিন উদ্দিন, হাসিবুর রহমান, জিহাদ, শুভ চন্দ্র, মোঃ আল রাফি, মোঃ আফনান আলিফ, রাবেয়া আক্তার, মহিমা আক্তার, রাফিয়া আক্তার ও হাজেরা আক্তার। সঙ্গীত পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণে যুক্ত রয়েছেন কণ্ঠশিল্পী মৃণাল সরকার, কাজী কাবীসা, জান্নাত, কানিজ ফাতেমা, সানজিদা আলম সান্জু, বীরেন সাহা এবং তবলা শিল্পী খোকন দাস ও শুভ। মঞ্চ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছেন হানিফ পাটোয়ারী, জয়রাম রায়, মোবারক হোসেন শিকদার, ফয়সাল ফরাজী, সাবিত্রী রানী ঘোষ, অ্যাডভোকেট ইয়াসিন ইকরাম চৌধুরী, শাওন পাটওয়ারী ও এস এম সোহেল। এছাড়া মঞ্চ পরিকল্পনা করেছেন মোঃ আলমগীর হোসেন পাটওয়ারী ও মানিক দাস এবং আলো পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন অতিথি শিল্পী গোবিন্দ মন্ডল ও মামুন হোসেন। নাট্যপ্রেমী দর্শকদের উপস্থিতিতে উৎসবের এই সমাপনী সন্ধ্যাটি দারুণ উপভোগ্য হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।