অজ্ঞান পার্টি-মলম পার্টি থেকে সতর্ক থাকতে হবে

এফএনএস | প্রকাশ: ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম
অজ্ঞান পার্টি-মলম পার্টি থেকে সতর্ক থাকতে হবে

আবারও বেড়েছে অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা। রাজধানীসহ সারাদেশে বেপরোয়া অজ্ঞান পার্টি। সাধারণ মানুষ তো নয়-ই, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও অজ্ঞান পার্টির হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। পুলিশ ডিবি, র‌্যাবসহ আইন শৃংখলা বাহিনীর মলম পার্টি ও অজ্ঞান পার্টির সদস্যেদের গ্রেফতারে যতই সক্রিয় হচ্ছে, আর অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির সদস্যরা নিত্য নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করে ততই সক্রিয় হচ্ছে। অজ্ঞান ও মলম পার্টির সদস্যরা দেশের বিভিন্ন লঞ্চ, বাস ও রেল স্টেশনে যাত্রীদের অজ্ঞান করে সর্বস্ব লুট করার টার্গেট নিয়েছে। এই পার্টির সদস্যদের দৌরাত্ম্যপনা বেশ পুরাতন সংস্কৃতি; নানা কৌশলে তারা তৎপর থাকেন নৌ, সড়ক কিংবা রেলপথে। বিশেষ করে, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, পঞ্চগড়-ঢাকা রেলপথের মত ব্যস্ততম রুটগুলোতে তারা যেন অতি চিনা মুখ! প্রতিনিয়তই দেশের বিভিন্ন রুটের কোনো না কোনো ট্রেনের যাত্রী এই দুষ্কৃতকারীদের শিকারে পরিণত হয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেস। ভুক্তভোগী যাত্রীদের বর্ণনা অনুযায়ী, স্টেশনগুলিতে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা ওত পেতে থাকেন; ট্রেন স্টেশন ছাড়ার পর যাত্রীদের সঙ্গে প্রথমে তারা ভালো সম্পর্ক তৈরি করেন, নানা ধরনের গল্প করতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা সঙ্গে থাকা চকলেট, শরবত, আচার, ডাব প্রভৃতি খাবার খেতে দেন যাত্রীদের। সেই খাবার খাওয়ার পর অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকেন যাত্রীরা। এর পর যা হবার তাই হয়! যাত্রীর সর্বস্ব কেরে নেয় অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা। এছাড়াও জানা গেছে, এখন তারা ফেরিওয়ালা, বাদাম বিক্রেতা, চা বিক্রেতা, ডাব বিক্রেতা, শরবত বিক্রেতাসহ বিভিন্ন বেশে মাঠে নেমেছে। এছাড়া, অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির সদস্যরা হাসপাতাল, মার্কেটসহ জনবহুল এলাকায়ও তাদের তৎপরতা শুরু করেছে। অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা বিষাক্ত ঔষধ, সুকরল, আচারের পোটলা, বিষাক্ত হালুয়া, কোরোফরম, টিসু পেপার, মলম, সেপ্র, মরিচের গুড়া, বাম, টাইগার বাম ইত্যাদি বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহার করে। এসব জিনিস ব্যবহার করায় অনেকে মারাও যাচ্ছে। অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির সদস্যরা সকল প্রকার মানুষকেই অজ্ঞান করে থাকে। একসময় অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অজ্ঞান করলেও সমপ্রতি তারা স্কোপোলামিন জাতীয় কেমিক্যাল ব্যবহার করছে। এর মাধ্যমে তারা সহজেই একজনকে অজ্ঞান করতে পারছে। অজ্ঞান ও মলম পার্টির সদস্যরা বেশির ভাগই গণপরিবহণ ও ভাসমান অবস্থায় অপরাধ করে। তাই এসব চক্র থেকে রক্ষায় জনসাধারণকেই বেশি সতর্ক হতে হবে। বিশেষ করে চলার পথে কোনো অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক ও খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এ ছাড়া কোনো ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানাতে হবে। এদের হাত থেকে বাঁচতে সচেতনতার বিকল্প নেই।