জবাবদিহি ও মাননিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত হোক

এফএনএস | প্রকাশ: ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম
জবাবদিহি ও মাননিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত হোক

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় পদ্মা নদীর তীরে নবনির্মিত স্থায়ী তীররক্ষা বাঁধের একটি অংশে ধস দেখা দেওয়ার ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরাখবর থেকে জানা গেছে, মাত্র দেড় মাস আগে নির্মিত বাঁধের সিসি ব্লক নদীর প্রবল স্রোতে সরে গিয়ে নদীগর্ভে বিলীন হতে শুরু করেছে। এতে নদীপারের মানুষের মধ্যে আবারও ভাঙন আতঙ্ক ফিরে এসেছে। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই, তবুও ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। পদ্মা তীরবর্তী অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। বহু পরিবার ইতোমধ্যে একাধিকবার বসতভিটা হারিয়েছে। এ বাস্তবতায় স্থায়ী তীররক্ষা বাঁধ শুধু একটি অবকাঠামো নয়, বরং মানুষের নিরাপত্তা ও জীবিকার অন্যতম ভরসা। ফলে এমন একটি প্রকল্পের কোনো অংশ নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্বাভাবিকভাবেই নির্মাণমান, নকশা, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং প্রকল্প তদারকি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অবশ্য এটিও বিবেচনায় রাখতে হবে যে, বর্ষাকালে পদ্মা নদীর প্রবল স্রোত ও পরিবর্তিত নদীগতি অনেক সময় প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করে। তাই কোনো একটি ঘটনা থেকেই নির্মাণে অনিয়মের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়। তবে প্রকৃত কারণ নির্ধারণে একটি স্বাধীন ও কারিগরি তদন্ত অপরিহার্য। তদন্তে যদি নকশাগত ত্রুটি, নির্মাণমানের দুর্বলতা কিংবা তদারকির ঘাটতি পাওয়া যায়, তাহলে দায় নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আর যদি এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক কারণে ঘটে থাকে, তবে ভবিষ্যতে একই ধরনের ঝুঁকি কমাতে প্রকৌশলগত সমাধান আরও শক্তিশালী করতে হবে। বড় অঙ্কের সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত অবকাঠামো প্রকল্পের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, গুণগত মান এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা জনস্বার্থের দাবি। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত ও টেকসইভাবে মেরামতের পাশাপাশি পুরো বাঁধের স্থিতিশীলতা পুনর্মূল্যায়ন করাও জরুরি, যাতে অন্য কোথাও একই ধরনের ঝুঁকি তৈরি না হয়। নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেবল প্রকল্প বাস্তবায়ন নয়, বরং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, সময়মতো রক্ষণাবেক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। জনগণের আস্থা তখনই সুদৃঢ় হবে, যখন প্রতিটি অবকাঠামো প্রকল্পে মান, জবাবদিহি এবং কার্যকারিতা সমানভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।