টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার প্রভাব রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জনজীবনের পাশাপাশি নিত্যপণ্যের বাজারেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পত্রপত্রিকার খবর থেকে জানা গেছে, অধিকাংশ সবজি, মাছ, ডিম এবং বিশেষ করে কাঁচামরিচের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অন্যদিকে মুরগির দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও সামগ্রিকভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ব্যয়ভার আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিক্রেতাদের দাবি, ভারী বৃষ্টিতে কৃষিজমির ক্ষতি, পরিবহনব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ঢাকায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এমন কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে সাময়িক মূল্যবৃদ্ধি অনেক সময় বাস্তব কারণেই ঘটে। তবে একই সময়ে অনেক ক্রেতার অভিযোগ, বাজারে দৃশ্যমান সংকট না থাকলেও বৃষ্টিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে অতিরিক্ত দাম আদায় করা হচ্ছে। এই দুই ধরনের বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। বাংলাদেশের বাজারে মৌসুমি পরিবর্তনের সঙ্গে দামের ওঠানামা নতুন নয়। কিন্তু প্রায় প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই ধরনের সংকট দেখা দেওয়ায় প্রশ্ন ওঠে, সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও বাজার তদারকিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি কতটা কার্যকর। কৃষিপণ্য দ্রুত পরিবহনের বিকল্প ব্যবস্থা, সংরক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত সরবরাহ শৃঙ্খল আরও দক্ষ করা গেলে এমন পরিস্থিতির প্রভাব অনেকাংশে কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। যদি সরবরাহ ঘাটতি প্রকৃত কারণ হয়, তবে তা দূর করতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। আর যদি কোনো পর্যায়ে কৃত্রিম সংকট বা সুযোগসন্ধানী মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা থাকে, তবে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এতে যেমন ভোক্তার স্বার্থ সুরক্ষিত হবে, তেমনি প্রকৃত উৎপাদক ও ব্যবসায়ীরাও একটি সুষ্ঠু বাজার পরিবেশ পাবেন। বর্ষাকাল বাংলাদেশের বাস্তবতা। তাই প্রতি বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তির পরিবর্তে আগাম পরিকল্পনা, কার্যকর সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, বাজার তদারকি এবং ভোক্তা-ব্যবসায়ী-উভয়ের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই হতে পারে স্থিতিশীল বাজার নিশ্চিত করার সবচেয়ে কার্যকর পথ।