বিচারক দম্পতির বাসায় চুরি, দুই সপ্তাহেও উদ্ধার হয়নি মালামাল

এফএনএস (এস এম এ হালিম দুলাল; জামালপুর) :
| আপডেট: ১৩ জুলাই, ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম | প্রকাশ: ১৩ জুলাই, ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম
বিচারক দম্পতির বাসায় চুরি, দুই সপ্তাহেও উদ্ধার হয়নি মালামাল

জামালপুরে বিচারক দম্পতির বাসায় চুরির ঘটনায় ৫ আসামী গ্রেপ্তার হলেও গত দুই সপ্তাহ পেরোলেও কোন মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। মামলা সূত্রে জানা গেছে, মেলান্দহ সিভিল জজ আদালতের বিচারক আহমাদুল কবির সাকিল এবং দেওয়ানগঞ্জ সিভিল জজ আদালতের বিচারক নুসরাত জেরিন জেনি জামালপুর শহরের আমলাপাড়া এলাকায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বাসায় বসবাস করেন। গত ৩০ জুন বিকেলে স্ত্রীকে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দিতে বাসা থেকে বের হন বিচারক আহমাদুল কবির সাকিল। রাতে ফিরে তিনি বাসার দরজা খুলতে না পেরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে দেখা যায়,দুর্বৃত্তরা জানালার গ্রিল কেটে ঘরে ঢ়ুকে আলমারির ড্রয়ার ভেঙে নগদ অর্থ,একটি হীরার আংটি, -^র্ণালংকারসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে। চুরি যাওয়া মালামালের মূল্য ১৯ লাখ ১৭ হাজার ৯৮৩ টাকা। ঘটনার পরদিন ১ জুলাই জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ কে এম ছরওয়ার জাহান সিদ্দিকী বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে স্থানান্তর করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ পাঁচজন আসামীকে গ্রেপ্তার করে গত ৩ জুলাই আদালতে সোপর্দ করে। পরে আদালত তাদের কারাগারে প্রেরণের নির্দ্দেশ দেয়।

পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, তদন্তের সূত্র ধরে প্রথমে একই ভবনের অন্য একটি ফ্ল্যাটের গৃহকর্মী মেলান্দহ উপজেলার চরপলিশা গ্রামের বাসিন্দা নিলুফা(৩২)কে আটক করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিচারক দম্পতির বাসার গৃহকর্মী সদর উপজেলার তিতপল্লা সরদারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হাওয়া বেগম (৩০)কে গ্রেপ্তার করা হয়। ঐ দুইজনের তথ্যের ভিত্তিতে পরে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- জেলা -ে^চ্ছাসেবক দলের সাবেক ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক পৌর শহরের গোলাপবাগ এলাকার বাসিন্দা সুমন মিয়া (৩৯),সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা নাজমুল ইবনে হোসেন ওরফে বিপ্লব (৩৯) এবং পৌর শহরের আমলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা কালাচাঁন (৫০) মোট ৫জনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ৫ জুলাই আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুর রহমানের আদালতে ৭দিনের রিমান্ড আবেদন করলে তা মঞ্জুর করে আদালত। রবিবার (১২ জুলাই) সাত দিনের রিমান্ড শেষে আসামীদের আদালতে হাজির করা হলে তাদের জেলহাজতে প্রেরণের নিদ্দেশ দেন। এদিকে গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার কথা -^ীকার করেছে এবং নিলুফা নামে একজন আসামী আদালতে ১৬৪ ধারায় -^ীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তদন্তের -^ার্থে চোরাই মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো চক্র জড়িত আছে কি’না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত চুরি হওয়া -^র্ণালংকার, নগদ অর্থ কিংবা অন্য কোনো মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন।

এ সংক্রান্ত বিষয়ে মামলার বাদী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ কে এম ছরওয়ার জাহান সিদ্দিকী অভিযোগ করে বলেন- স্যারদের বাসায় চুরি ঘটনা দুই সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও মালামাল উর্দ্ধারের আশানুরূপ কোন ফলাফল পাইনি। কারণ চুরির সাথে সংশ্লিষ্টতা স্পষ্ট সকল আসামী ধরাপড়ার পরও চোরাই মালামাল উদ্ধার না হওয়া হতাশা ব্যক্ত করছি। পাশাপাশি দ্রুত মালামাল উদ্ধারের জন্য পুলিশ প্রশাসনের জোর তৎপরতা কামনা করছি। এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) সোহাগ জানান, রিমান্ডে নিয়ে আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে কিছু তথ্য উপাত্ত করা হচ্ছে, সে গুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে মালামাল উদ্ধারে আবারও রিমান্ড আবেদন করা হবে। এ বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আব্দুল কাইয়ুমকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে