সকাল সাড়ে ৭টায় জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত

এফএনএস | প্রকাশ: ২৮ মে, ২০২৬, ০৬:৪৫ এএম
সকাল সাড়ে ৭টায় জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত

রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই জামাতের সব ধরনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।

বরাবরের মতোই এই মূল জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, বিচারপতিরা, দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিদেশি দূতাবাসের কূটনীতিকদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম জানিয়েছেন, মুসল্লিদের জন্য আধুনিক নাগরিক সুবিধা, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা এবং নারী ও পুরুষদের জন্য আলাদা শৃঙ্খলার মাধ্যমে নামাজ আদায় আরামদায়ক করতে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক প্রধান এই ঈদ জামাতে ইমামতি করবেন।

আয়তন ও ধারণক্ষমতা

জাতীয় ঈদগাহের মোট ৩০ হাজার বর্গমিটার জায়গার মধ্যে ২৫ হাজার ৪০০ বর্গমিটার এলাকা প্যান্ডেলের আওতায় আনা হয়েছে। এখানে সাজানো ১২১টি কাতারে একসাথে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ জামাতে শরিক হতে পারবেন। ভিআইপিদের জন্য ২৫০ জন পুরুষ ও ৮০ জন নারীর আসন সংরক্ষিত থাকবে। এছাড়া সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে প্রায় ৩১ হাজার পুরুষ এবং সাড়ে ৩ হাজার নারী আলাদাভাবে এখানে নামাজ পড়ার সুযোগ পাবেন।

প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ

ঈদগাহে যাতায়াত সুশৃঙ্খল রাখতে মোট চারটি প্রবেশদ্বার করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি ভিআইপিদের জন্য, দুটি সাধারণ পুরুষদের এবং একটি নারীদের জন্য নির্দিষ্ট। একইভাবে বের হওয়ার জন্য রাখা হয়েছে সাতটি গেট—যার মধ্যে একটি ভিআইপি, পাঁচটি সাধারণ পুরুষ এবং একটি নারীদের জন্য ব্যবহার করা হবে।

কাতার ও অজুর ব্যবস্থা

ঈদগাহের মোট ১২১টি কাতারের মধ্যে ভিআইপি পুরুষদের জন্য ৫টি ও নারীদের জন্য ১টি কাতার থাকছে। সাধারণ পুরুষদের জন্য বড় আকারের ৬৫টি এবং নারীদের জন্য ছোট আকারের ৫০টি কাতার করা হয়েছে। এছাড়া মাঠের অজুখানায় একসাথে ১৪০ জন অজু করতে পারবেন, যেখানে পুরুষদের জন্য ১১৩টি এবং নারীদের জন্য ২৭টি ট্যাপের পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে।

বিশেষ সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা

গ্রীষ্ম ও বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে প্যান্ডেলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), পর্যাপ্ত ফ্যান, লাইটিং এবং ওয়াটারপ্রুফ সামিয়ানার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মুসল্লিদের জন্য থাকবে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও কার্পেটের ব্যবস্থা। নিরাপত্তার পাশাপাশি যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দিতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের অগ্নিনির্বাপণ দল, প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র, ভ্রাম্যমাণ টয়লেট এবং বৃষ্টির পানি দ্রুত সরানোর বিশেষ ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া ঈদগাহের সৌন্দর্য বাড়াতে তিনটি দৃষ্টিনন্দন প্রধান তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে