কিশোরগঞ্জে হাওরের মাছের রাজ্য নিকলীর নতুন বাজার

এফএনএস (আমিনুল হক সাদি; কিশোরগঞ্জ) : | প্রকাশ: ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৪:৪৬ এএম
কিশোরগঞ্জে হাওরের মাছের রাজ্য নিকলীর নতুন বাজার

কিশোরগঞ্জের হাওর এলাকা নিকলী উপজেলার নতুন বাজার মাছের আড়ত হিসেবে পরিচিতি। বিশেষ করে দেশি মাছের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে জমজমাট হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন ভোর থেকেই এখানে জমে ওঠে মাছের কেনাবেচা। কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা,মিঠামইন, অস্ট্রগ্রামের বিভিন্ন হাওর এলাকা থেকে জেলেরা নৌকা ভর্তি করে দেশীয় প্রজাতির মাছ নিয়ে আসেন এই আড়তে। সকাল ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত চলে মাছের বেচাকেনা। আড়তে ঢুকলেই চোখে পড়ে নানা প্রজাতির তাজা মাছ। দামের হাঁকডাক, ক্রেতা-বিক্রেতার দরকষাকষিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। এখানে কেজি দরে মাছ বিক্রি করা হয়। হাওরের বড় চিংড়ি, গুলশা ও ট্যাংরা মাছের কদর সব সময়ই বেশি। পাশাপাশি বোয়াল, আইড় ও চিতল মাছও ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে। সব মিলিয়ে নতুন বাজার মাছ আড়তকে দেশীয় মাছের এক সমৃদ্ধ ভাণ্ডার বললে ভুল হবে না। এ বাজারে নিয়মিত পাওয়া যায় বোয়াল, আইড়, চিতল, রুই, কাতলা, মৃগেল, বাইন, কার্প, কালিবাউশ, পাবদা, মেনি (রয়না), পুঁটি, কই, মাগুর, শিং, চিংড়ি, গুলশা, শৌল, কাঁচকি, টাকি, কাইক্কা, চাপিলা, চান্দাসহ প্রায় অর্ধশতাধিক প্রজাতির ছোট-বড় দেশি মাছ। নিকলীর পাশের ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলা ছাড়াও সুনামগঞ্জের দিরাই এবং নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি উপজেলার বিভিন্ন হাওর থেকে এসব মাছ আসে। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি আড়তদারদের মাধ্যমে এসব মাছ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। মাছ ব্যবসায়ী মো. মুখলেছ মিয়া জানান, বর্তমানে হাওরে মাছের সরবরাহ তুলনামূলক কম। ফলে কিছু কিছু মাছের দাম আগের চেয়ে বেড়েছে। কেজিভেদে মাছের দাম ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানান তিনি। তবুও বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি সন্তোষজনক। নতুন বাজারের মৎস্য আড়তের ব্যবসায়ী কারার ইখতিয়ার আহমেদ আরিফ বলেন, এখন বাজারে মাছের সরবরাহ কম। তাই কিছু মাছের দাম বাড়তি। বিশেষ করে বোয়াল মাছের দাম বেড়েছে। তবে মোটের ওপর বেচাকেনা ভালোই হচ্ছে। মাছ কিনতে আসা যাইটধ্যর সাহাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. মাহবুব মিয়া বলেন, আমি নিয়মিত এখান থেকে মাছ কিনি। আজ ১৮০ টাকা কেজি দরে বড় সাইজের তিনটি গ্রাসকার্প মাছ নিয়েছি। আগের তুলনায় দাম একটু বেশি, তবে মাছ ভালো। অন্যদিকে বাজারের পাশের পূর্ব গ্রামের মাছ বিক্রেতা রিমেল মিয়া বলেন, ছোট বাঁশের খাঁচায় করে আইড় ও রুই মাছ এনেছি। আমি কেজি দরে সাড়ে চারশ’ টাকা চেয়েছি, কিন্তু ক্রেতা সাড়ে তিনশ’ টাকা দাম বলছে। আর একটু দাম পেলে মাছ বিক্রি করে বাড়ি ফিরব। বর্তমানে এ বাজারে কেজি দরে আইড় ১ হাজার ২০০ টাকা, বোয়াল ৯০০ টাকা, গুলশা ৬০০ টাকা, ট্যাংরা ৪০০ টাকা, চিংড়ি ১ হাজার ২০০ টাকা, চিতল ৫৫০ টাকা, রুই ৬০০ টাকা, কাতলা ৫০০ টাকা, বাইন ৯০০ টাকা, পাবদা ৫০০ টাকা, কই ৫০০ টাকা, মাগুর ৬০০ টাকা, শিং ৫০০ টাকা, শৌল ৪৫০ টাকা, চাপিলা ৪০০ টাকা, চান্দা ১০০ টাকা ও টাকি ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। হাওরের মিঠাপানির দেশি মাছের কারণে নতুন বাজার মাছ আড়ত নিকলীসহ আশপাশের এলাকার মানুষের জীবিকা ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে