সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার মীরডাঙা-দলুইপুর গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা অবশেষে বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ ও আন্তরিক সহযোগিতায় রাস্তা নির্মাণের জন্য ২৭ শতক জমি ক্রয় করা হয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার অবসানের আশায় নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন এলাকাবাসী।
রবিবার (৮ নভেম্বর ২০২৬) সকাল ৮টার দিকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে রাস্তা নির্মাণের এ উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এ সময় এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেয়াড়া-যুগিখালি ইউনিয়নের প্রায় দুই লাখ মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে মীরডাঙা-দলুইপুর গ্রামের মানুষের চলাচল, কৃষিপণ্য পরিবহনসহ দৈনন্দিন কাজে নানা সমস্যার সৃষ্টি হত। বর্ষা মৌসুমে এ ভোগান্তি আরও বেড়ে যেত।
এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে এগিয়ে আসেন গ্রামের প্রবাসী ভাইয়েরা। তাঁরা সম্মিলিতভাবে নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে রাস্তা নির্মাণের জন্য নগদ টাকায় ২৭ শতক জমি ক্রয় করেন। তাঁদের এই উদ্যোগে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত রাস্তা নির্মাণের পথ সুগম হয়েছে।
জমি ক্রয়ের উদ্যোগ গ্রহণকারী প্রবাসীদের মধ্যে রয়েছেন আনারুল ইসলাম, আব্দুল জলিল, রাশিদুল ইসলাম, ফারুক হোসেন, আলতাব হোসেনসহ আরও অনেকে। রবিবার সকালে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা ইব্রাহিম হোসেন, উপজেলা বিএনপির নেতা প্রভাষক পারভেজ, সুলতান সরদার, আব্দুল সাত্তার গাজি, হাশেম, আরশাদ আলী, মিজানুর রহমান, শিক্ষক মাহবুবুর রহমানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি চলাচলের উপযোগী রাস্তার অভাবে এলাকার মানুষকে নানা দুর্ভোগের স্বীকার হতে হয়েছে। প্রবাসী ভাইয়েরা এগিয়ে আসায় এখন সেই সমস্যার সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তাঁদের এই উদ্যোগ এলাকার মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।
এলাকাবাসীর মতে, প্রবাসীদের এই সহযোগিতা শুধু জমি কেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি নিজ এলাকার মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও সামাজিক উন্নয়নে অংশগ্রহণের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁদের প্রত্যাশা, দ্রুত রাস্তার নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে মীরডাঙা-দলুইপুরসহ আশপাশের এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগ লাঘব হবে। পাশাপাশি এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা, ব্যাবসা-বাণিজ্য ও কৃষিপণ্য পরিবহনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। নিজেদের জন্মভূমির মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে প্রবাসীদের এমন সম্মিলিত উদ্যোগ এলাকাবাসীর কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।