নাশকতা পরিকল্পনার অভিযোগে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীসহ একজন শিক্ষক, একজন ব্যবসায়ী এবং ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসা এক চাকরিজীবীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ মাসুদ খান জানিয়েছেন, শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-উপজেলার পূর্ব বাকাল গ্রামের মৃত সোলেমান সরদারের ছেলে ও বাকাল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. অলিউল রহমান, মধ্য শিহিপাশা গ্রামের হালিম খলিফার ছেলে ও উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য রবিউল খলিফা, বাকাল গ্রামের হানিফ মৃধার ছেলে ও উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য রাব্বি মৃধা, উপজেলার গৈলা ইউনিয়ন যুবলীগ সহ-সভাপতি ও পূর্ব সুজনকাঠী গ্রামের রজব আলী সরদারের ছেলে কামরুল সরদার, উত্তর শিহিপাশা গ্রামের শাহে আলম সরদারের ছেলে ও গৈলা ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল সরদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও কালুপাড়া গ্রামের মৃত আশ্রাব সরদারের ছেলে সরোয়ার সরদার, মুড়িহার গ্রামের ইউনুস সরদারের ছেলে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রাজিব সরদার।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আগৈলঝাড়া-পয়সারহাট সড়কের বাকাল পয়সা নামক এলাকায় শুক্রবার ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ ঘটনায় ওইদিন রাতে থানা পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগি সংগঠনের সাতজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অপরদিকে আগৈলঝাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ মো. লিটন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আগৈলঝাড়া সদরের ভেগাই হালদার পাবলিক একাডেমির শিক্ষক মো. অলিউল রহমান ছাত্রজীবনে বাকাল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ না থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান হওয়ায় গৈলা ইউনিয়নের দক্ষিণ শিহিপাশা গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা ইউনুস সরদারের ছেলে ঢাকার একটি বেসরকারি কোম্পানীতে কর্মরত রাজিব সরদার এবং গৈলা বাজারের ব্যবসায়ী সাইফুল সরদারকে পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক হয়রানি ও মিথ্যা ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।