এইচএসসিতে ময়মনসিংহে পাসের হার ৫১.৪৪ শতাংশ, ১৯ প্রতিষ্ঠানে ফেল

এফএনএস (রকিবুল হাসান চৌধুরী রুবেল, ময়মনসিংহ) :
| আপডেট: ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ০২:১৮ পিএম | প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ০২:০৮ পিএম
এইচএসসিতে ময়মনসিংহে পাসের হার ৫১.৪৪ শতাংশ, ১৯ প্রতিষ্ঠানে ফেল

ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় মোট ৭৩ হাজার ৪২০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ৩৬ হাজার ৩৫৪ জন। আর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ১৩৭ জন। তাছাড়া এ বছর পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৯টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। বিপরীতে শতভাগ পাস করেছে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান। শনিবার (৩১ অক্টোবর) ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান, বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. শাহাদত উল্লাহ। ফলাফল ঘোষণায় জানানো হয়, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ বছর পাসের হার ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর ও নেত্রকোনা জেলার ৭০ হাজার ৬৭৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়।  মোট কৃতকার্য হয়েছে ৩৬ হাজার ৩৫৪ জন শিক্ষার্থী। মোট অংশগ্রহনকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩১৫ টি।জেলাভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, পাসের হারে সবচেয়ে এগিয়ে ময়মনসিংহ জেলা। ময়মনসিংহ জেলার মোট ৫৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ পাস করেছে। পাসের হারে সবচেয়ে পিছিয়ে জামালপুর জেলা। এ জেলায় পাসের হার ৪৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ। পাসের হারে দ্বিতীয় শেরপুর জেলায় পাসের হার ৪৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ আর তৃতীয় স্থানে থাকা নেত্রকোনা জেলার পাসের হার ৪৩ দশমিক ৯১ শতাংশ। ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে অধীনে শতভাগ পাস করেছে ৫টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। এ ৫ টি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ময়মনসিংহ জেলার কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, ময়মনসিংহ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ, জামালপুর জেলার ইউনাইটেড পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ এবং ময়মনসিংহ জেলার সিটি কলেজ।

শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৯ টি। তবে সংবাদ সম্মেলনে এ ১৯টি প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করা হয়নি। তিনি আরো জানান, ইংরেজি ও হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে তুলনামূলক বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় সামগ্রিক ফলাফলে এর প্রভাব পড়েছে। তাছাড়াও যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল সন্তোষজনক নয়, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়,সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরাই বেশি ভাল করছে। ফলাফলের বিস্তারিত পরিসংখ্যান থেকে এমন তথ্যই উঠে আসে। তবে এবার ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে বিজ্ঞান বিভাগ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে মেয়েদের চেয়ে ছেলেরা জিপিএ ৫ বেশি পেয়েছে। পাসের হার ও মোট জিপিএ ৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা।ময়মনসিংহ বোর্ডের ফলাফল থেকে জানা যায়, এ বোর্ডের অধীনে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ছেলে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ৮৯১ জন। মেয়েদের জিপিএ ৫ প্রাপ্তের সংখ্যা ৮২১ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়েছে ২৬ জন ছেলে শিক্ষার্থী। আর এ তালিকায় মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১২ জনফলাফলের অন্যান্য বেশির ভাগ সূচকেই অবশ্য মেয়ে শিক্ষার্থীরা এগিয়ে রয়েছে এই বোর্ডে। মানবিক বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়েছে ২৮৬ জন মেয়ে শিক্ষার্থী। এ বিভাগে ছেলের জিপিএ ৫ প্রাপ্তের সংখ্যা ১০১ জন। পাসের হারে তিনটি বিভাগেই এগিয়ে মেয়ে শিক্ষার্থীরা। বোর্ডের অধীনে মেয়েদের মোট পাসের হার ৫৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ আর ছেলেদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ।বছরভিত্তিক তুলনামূলক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত চার বছরের মধ্যে এ বছর ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের এ বছর পাসের হার  ও জিপিএ ৫ প্রাপ্তির দিক থেকে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে।  ২০২৫ সালে এ বোর্ডের পাসের ছিল ৫১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। যা চলতি বছরের চেয়ে সামান্য বেশি। এর আগে ২০২৪ সালের পাসের ছিল ৬৩দশমিক ২২ শতাংশ। ২০২৩ সালের যা ছিল ৭০ দশমিক ৪৪ শতাংশ।জিপিএ ৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে দেখা যায়, ২০২৪ সালের চেয়ে এ বছর ২ হাজার ৬৮৯ শিক্ষার্থীই কম পেয়েছে। এ বছর জিপিএ ৫ পেয়েছে ২ হাজার ১৩৭ জন। এর আগে ২০২৫ এ ২ হাজার ৬৮৪ জন, ২০২৪ সালে ৪ হাজার ৮২৬ জন এবং এবং ২০২৩ সালে ৩ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী পেয়েছে জিপিএ ৫।উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কৃষিবিদ ড. আ খ ম কামাল হাসানের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে ময়মনসিংহ বোর্ডের সচিব মো. এনামুল হক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. শাহাদৎ উল্লাহ, কলেজ পরির্দশক প্রফেসর এসএম আরিফুর রহমানসহ বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে