নীলফামারী জেলার সব উপজেলায় হঠাৎ করেই এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে একশ্রেণির ডিলার ও পরিবেশক গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। শুধু দাম বাড়িয়ে তারা বসে থাকেনি সাথে রাতের অন্ধকারে গ্যাস সরিয়ে ফেলেছে। গ্যাস সড়িয়ে তারা বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে এমন অভিযোগ অনেকের। এক হাজার তিনশ' টাকার এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার এখন বিক্রি হচ্ছে এক হাজার নয়শ' থেকে দুই হাজার একশো টাকা পর্যন্ত। বিশেষ করে সৈয়দপুরে হঠাৎ হাওয়া হয়ে গেছে গ্যাস। এতোদিন যারা শহরের মোড়ে মোড়ে সারিবদ্ধভাবে লাগানো ছিল গ্যাস সিলিন্ডার। সেখান থেকে গ্যাস বিক্রি করা হত। তাছাড়া মহল্লার পান দোকান থেকে শুরু করে মুদি দোকান, লন্ড্রি দোকান, ফ্যাক্সি দোকান এমনকি খড়ি দোকানেও বিক্রি হত গ্যাস। এখন ওই সব স্থান গ্যাসশূন্য হয়ে গেছে। দুই একজন গোপনে গ্যাস বিক্রি করলেও দাম হাকছেন অনেক বেশি। প্রশ্ন তুললে বলা হচ্ছে সংকটের কথা। তবে বাধ্য হয়ে অনেকে বেশি দামে তা ক্রয় করছেন। ভোক্তা মুক্তা বানু ও ইয়াসিন আলী সরকার বলেন, গ্যাস মিলছে না বাড়তি দামেও। এক মুদি দোকানদার জানান, বাড়তি আয় করতে তিনি দোকানে গ্যাস রাখতেন। বিক্রিও হত বেশ ভাল। কিন্তু হঠাৎ বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় অতিরিক্ত দাম দিয়েও গ্যাস সিলিন্ডার পাচ্ছেন না সাধারণ ভোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। কোন কোন দোকানে সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও তা সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে ইচ্ছামতো দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে বাসাবাড়ির পাশাপাশি হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। খুচরা বিক্রেতারা জানান, ডিলারদের কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। বেশি দাম দিতে রাজি থাকলেও প্রয়োজনমতো সরবরাহ মিলছে না। ফলে দোকানে অল্প কিছু সিলিন্ডার এলেও তা মুহূর্তেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সিলিন্ডারের দাম বাড়তে পারে-এমন খবর ছড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই ডিলাররা দাম বাড়িয়ে দেন। গত কয়েকদিন বসুন্ধরা
প্রতিটি সিলিন্ডার ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ২ হাজার ১শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। হঠাৎ করে গ্যাস সিলিন্ডার রহস্যজনকভাবে বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে। বাংলাদেশ হোটেল এন্ড রোস্তোরা মালিক সমিতি সৈয়দপুর উপজেলা শাখার এক নেতা জানান, গ্যাস সংকট চলছে সৈয়দপুরে। বাড়তি দাম দিয়েও মিলছে না গ্যাস।সৈয়দপুর বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের এক নেতা জানান, সৈয়দপুরে বিভিন্ন কোম্পানির গ্যাসের ডিলার রয়েছে বেশ কয়েকজন। তাদের ডিপোতে প্রচুর গ্যাস ছিল। হঠাৎ এতো গ্যাস গেল কোথায় তা মাথায় আসছে না। এরা কারসাজি করে গ্যাস স্টক করেছে। এদের গোডাউনে অভিযান চালানো হলে গ্যাস বের হবে। টিনের দোকানদার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি টিন ব্যবসার পাশাপাশি গ্যাস বিক্রি করতাম। এখন বাড়তি দাম দিয়েও গ্যাস পাচ্ছি না। সৈয়দপুর শহরের গ্যাস ব্যবসায়ীরা জানান, বসুন্ধরা, যমুনা ও জেএমআই গ্যাসের সিলিন্ডার ডিলারদের কাছে পাওয়া যাচ্ছে না। ওমেরা গ্যাস সীমিত পরিমাণে পাওয়া গেলেও ডিলার চাহিদামতো সরবরাহ করছে না। একেক দোকানে ৪ থেকে ৬টি করে সিলিন্ডার দিচ্ছে। এ ব্যাপারে গ্যাসের ডিলাররা কোন মন্তব্য করতে নারাজ। তারা শুধু বলছেন গ্যাস নেই। কেউ কেউ গোডাউন ঘর তালাবদ্ধ রেখেছেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা। সচেতন মহল ও ভোক্তারা বলছেন, দ্রুত অভিযান চালিয়ে মজুতদারি, অতিরিক্ত দাম আদায় ও মেমোবিহীন বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এই কৃত্রিম সংকট আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। সৈয়দপুর শহরের সাধারণ ভোক্তারা দ্রুত সময়ে অভিযানের জন্য জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি কামনা করেছেন।