জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, গ্রেপ্তার ৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৫ এএম
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, গ্রেপ্তার ৬
ছবি: সংগ্রহীত

রাজধানীর ইসিবি চত্বরের দক্ষিণ মানিকদী এলাকায় আবাসন ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। সর্বশেষ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পশ্চিম মাটিকাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

এর আগে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) হামলার মূল পরিকল্পনাকারী শাহরিয়ার মাহমুদসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিউগিনি প্রপার্টিজের পক্ষ থেকে করা মামলায় শাহরিয়ারকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ঘটনার সূত্রপাত রাজধানীর ইসিবি চত্বরের পার্শ্ববর্তী দক্ষিণ মানিকদী এলাকায় জমি ও আবাসন ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিরোধ থেকে। ২৬ সেপ্টেম্বর, শনিবার দিবাগত রাতে নিউগিনি প্রপার্টিজের একটি ভবনে হামলা চালানো হয়। ওই ভবনেই ছিল সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও। হামলাকারীরা গুলি করতে করতে ভবনে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার পর ওই এলাকার আবাসন ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের বিষয়টি সামনে আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকটি আবাসন ব্যবসায়ী চক্র প্লট বিক্রির পর ক্রেতাদের ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় রাস্তা ব্যবহারের সুযোগ দেয় না। পরে নানা চাপের মুখে কম দামে তাদের কাছেই জমি বিক্রি করতে বাধ্য হন কেউ কেউ।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, কারও জমি এলাকায় থাকলে চারপাশে বেড়া বা দেয়াল তুলে তাকে জমি বিক্রি করতে বাধ্য করার ঘটনাও রয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে নিউগিনি প্রপার্টিজের মালিক নাজিম উদ্দিন ভূইয়ার নামও এসেছে।

অভিযোগ রয়েছে, নাজিম উদ্দিনের আবাসন প্রকল্পের পাশের কয়েকটি পক্ষের সঙ্গে বিরোধের জেরেই শনিবার রাতের হামলার ঘটনা ঘটে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নাজিম উদ্দিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। সেখানে একজন নিজেকে তার ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয় দিয়ে অফিস কক্ষে প্রবেশে বাধা দেন।

হামলার ঘটনায় করা মামলার পর অভিযুক্তদের অনেকেই এলাকা ছেড়ে গেছে বলে জানা গেছে। তবে এরই মধ্যে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার দুপুরের পর রাজধানীর বেইলি রোড এলাকা থেকে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী শাহরিয়ার মাহমুদকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে শাহ আলম অনিককে গ্রেপ্তার করে ডিবি। গ্রেপ্তার শাহ আলম অনিক ভাষানটেক থানা যুবলীগের সহসভাপতি বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া ভাষানটেক বস্তির মো. মামুন, মজুমদার মোড় এলাকার আসলাম ও মুন্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোমবার বিকেলে পশ্চিম মাটিকাটা এলাকা থেকে মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন বলেন, নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। দখলকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া এ ধরনের ঘটনায় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনার রাতে ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন জানিয়েছিলেন, স্টুডিওর জমির মালিক নিউগিনি প্রপার্টিজ লিমিটেড এবং এলাকার অন্য জমির মালিকদের মধ্যে বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলার পর রাত পৌনে ২টার দিকে ব্রাউনফিশ স্টুডিওর ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে আসেন সালমান মুক্তাদির। তিনি বলেন, কিছুক্ষণ আগে স্টুডিওতে হামলা হয়েছে এবং পুরো স্টুডিও ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য ভবনের মালিক হতে পারেন এবং তার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়ে থাকতে পারে বলেও তখন অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটনার দুই দিন পর সরেজমিনে দেখা যায়, হামলা ও ভাঙচুরের শিকার ভবনগুলো থেকে নির্মাণশ্রমিকরা চলে গেছেন। আশপাশের কয়েকটি ভবনের নির্মাণকাজও বন্ধ রয়েছে। যারা কাজ করছেন, তাদের মধ্যেও আতঙ্ক দেখা গেছে।

ইসিবি চত্বরের পার্শ্ববর্তী মানিকদী এলাকায় আবাসন প্রকল্প ও নির্মাণাধীন ভবনের সংখ্যা বেশি। এসব প্রকল্পকে ঘিরে জমির মালিকানা, দখল ও আবাসন ব্যবসার নানা বিরোধ রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলার পর সেই বিরোধই নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে