চাঁদপুরে ২ মাসে পুলিশের কঠোর অ্যাকশন, ৮১ মামলা, আটক ১২৯

এফএনএস (মিজানুর রহমান; চাঁদপুর) :
| আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম | প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম
চাঁদপুরে ২ মাসে পুলিশের কঠোর অ্যাকশন, ৮১ মামলা, আটক ১২৯

পদ্মা, মেঘনা আর ডাকাতিয়া-এই তিন নদীকে ঘিরে গড়ে ওঠা চাঁদপুর জেলার জীবন-জীবিকা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের মূল ধমনিই হলো নৌপথ। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযানের কলরবে মুখরিত থাকে এখানকার নদীগুলো। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বেপরোয়া নৌযান নিয়ন্ত্রণ, মাদক পাচার রোধ এবং মৎস্যসম্পদ রক্ষায় বর্তমানে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে চাঁদপুর নৌ-থানা পুলিশ।

সম্প্রতি নৌ-থানা পুলিশের গত দুই মাসের (জুলাই ও আগস্ট) বিশেষ অভিযানের চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। এতে দেখা যায়, নদীপথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চালানো এই ঝটিকা অভিযানে ৮১টি মামলা দায়েরের পাশাপাশি ১২৯ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া জব্দ করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কারেন্ট জাল, বেপরোয়া গতির নৌযান, বাল্কহেড এবং উদ্ধার করা হয়েছে মাদকদ্রব্য।

নৌ-থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে যোগদান করেন মো. আজমগীর

হোসাইন।  দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি নদীপথের অপরাধ চক্র দমন ও ইলিশ সম্পদ রক্ষায় অভিযানের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেন।

জুলাই মাসের পরিসংখ্যান: জুলাই মাসে নৌ-থানা পুলিশ মৎস্য আইনে ১৯টি, বেপরোয়া গতি আইনে ২০টি এবং মাদক সংক্রান্ত ১টিসহ মোট ৪০টি মামলা করে। এসব মামলায় ৭২ জনকে আটক করা হয়। একই সাথে ২ হাজার ৪০০ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল, ৮টি নৌকা, ২০টি বাল্কহেড ও ৫ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। নদীর শৃঙ্খলা ফেরাতে এ মাসে পরিচালিত হয় ৬টি ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আগস্ট মাসের তৎপরতা: জুলাইয়ের ধারাবাহিকতা বজায় ছিল আগস্টেও। এ মাসে মৎস্য আইনে ২৬টি, বেপরোয়া গতিতে নৌযান চালানোর দায়ে ১০টি এবং মাদক আইনে ৪টিসহ মোট ৪১টি মামলা দায়ের করা হয়। এ সময় ৫৭ জন আসামিকে গ্রেফতারের পাশাপাশি ৪ হাজার ২২৮ মিটার কারেন্ট জাল, ১২টি নৌকা ও ১০টি বাল্কহেড জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা হয় ১২ কেজি গাঁজা ও ৩ পিস ইয়াবা।

দুই মাসের সমন্বিত হিসাবে দেখা যায়, পুলিশ মোট ৬ হাজার ৬২৮ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল, ২০টি নৌকা ও ৩০টি বেপরোয়া বাল্কহেড নদী থেকে জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে।

অভিযানের বিষয়ে চাঁদপুর নৌ-থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজমগীর জানান, "নৌপথের সাধারণ যাত্রী ও নৌযানের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। বেপরোয়া গতির বাল্কহেড, অবৈধ কারেন্ট জাল কিংবা মাদক-অপরাধের ধরন যাই হোক না কেন, নদীপথে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধ দমনে আমাদের এই নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।"

চাঁদপুরবাসীর মতে, নৌপথ সুরক্ষিত না থাকলে উপকূলীয় অর্থনীতি ও জনজীবন থমকে দাঁড়ায়। নৌ-থানা পুলিশের এই ধারাবাহিক ও কঠোর পদক্ষেপে একদিকে যেমন বেপরোয়া নৌযান ও চোরাচালানের গতি কমেছে, অন্যদিকে মৎস্যসম্পদ রক্ষায় তৈরি হয়েছে ইতিবাচক প্রভাব। সংখ্যার খাতায় কেবল মামলা বা আটকের হিসাব নয়, চাঁদপুরের নদীপথে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনাই এখন স্থানীয়দের মূল প্রত্যাশা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে