হাতিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডোম না থাকায় ময়নাতদন্তে চরম ভোগান্তি

এফএনএস (কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার; হাতিয়া, নোয়খালী) : | প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩২ এএম
হাতিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডোম না থাকায় ময়নাতদন্তে চরম ভোগান্তি

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সাত লাখ বাসিন্দার জন্য একমাত্র সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র ‘হাতিয়া ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’। তবে আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ-সুবিধায় পিছিয়ে থাকা এই দ্বীপাঞ্চলে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে নেই কোনো ‘ডোম’ (ময়নাতদন্তে সহায়তাকারী)। ফলে উপজেলায় কোনো অপমৃত্যু, হত্যাকাণ্ড বা রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে লাশের পোস্টমর্টেম (ময়নাতদন্ত) করাতে চরম ধকল পোহাতে হচ্ছে পুলিশ ও ভিকটিমের পরিবারকে। হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডোম পদটি খালি থাকায় সেখানে ময়নাতদন্তের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও কাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে যেকোনো অপমৃত্যুর ঘটনায় লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠাতে হয় জেলা সদর নোয়াখালীর ২৫০ শয্যার হাসপাতালে।  হাতিয়া থেকে জেলা সদরে লাশ পৌঁছাতে প্রথমে উত্তাল মেঘনা নদীর ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ট্রলার বা সি-ট্রাকে করে মূল ভূখণ্ডে পৌঁছাতে হয়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় এই নদীপথ অতিক্রম করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। নদী পার হওয়ার পর সড়কপথে আরও প্রায় ৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে জেলা সদরে পৌঁছাতে হয়। একটি লাশের পোস্টমর্টেম সম্পন্ন করে হাতিয়ায় ফিরিয়ে এনে দাফন করতে ন্যূনতম ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় লেগে যায়।  প্রিয়জনকে হারানোর শোকে যখন স্বজনরা দিশেহারা, তখন লাশ বহনে বিপুল অঙ্কের ট্রলার ভাড়া ও অ্যাম্বুলেন্স খরচ জোগাতে গিয়ে পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে পড়ে। মেঘনা নদী পারাপার ও দীর্ঘ পথ ভ্রমণের খরচ অনেক দরিদ্র পরিবারের পক্ষে বহন করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।                     এই ব্যাপারে হাতিয়া থানার ওসি মোঃ কবির হোসেন জানান, লাশ ঘর না থাকায় ২১শ' বর্গ কিলোমিটারের হাতিয়ায় বিভিন্ন দুরন্ত থেকে লাশ এনে থানার সামনে খোলা আকাশের নিচে রাখতে হয়। এছাড়া অপমৃত্যুর তদন্তে নেমে পুলিশ সদস্যদের একটি  অংশকে লাশের নিরাপত্তায় জেলা সদরে যাতায়াত করতে হয়। এতে একদিকে যেমন থানার দৈনন্দিন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাঘাত ঘটে, অন্যদিকে প্রশাসনিক কাজে তৈরি হয় দীর্ঘসূত্রতা।  প্রচণ্ড গরমে বা উত্তাল নদীতে আটকে থাকলে দীর্ঘ সময় পার হওয়ার কারণে লাশে পচন ধরে, যা ময়নাতদন্তের সময় সঠিক রিপোর্ট পাওয়ার ক্ষেত্রে বিঘ্ন ঘটায়। বিশেষ করে পরিচয়হীন অজ্ঞাতনামা লাশের ক্ষেত্রে পুলিশের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছে। তাই মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হিসেবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাতিয়াতে একটি লাশ ঘর নির্মাণ ও ডোম নিয়োগ করা অপরিহার্য । হাতিয়ার সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এডভোকেট ফজলে আজিম তুহিন বলেন, একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপের সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার ও বিচার পাওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্রুত ডোম নিয়োগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।                   এ ব্যাপারে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মানসী রানী সরকার বলেন, দীর্ঘ অনেক বছর যাবৎ এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডোমের পদটি শূন্য। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য উপজেলা পর্যায়ে এখন ডোম নিয়োগের সিস্টেম নেই। তবু ও দ্বীপাঞ্চল এবং দুর্গম এলাকা হিসেবে ডোম নিয়োগ করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে উপকৃত হবে হাতিয়ার সর্বস্তরের জনগণ।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে