৪ কিলোমিটার রেলপথে ৬ হাজার স্লীপার ক্ষতিগ্রস্থ

এফএনএস (আদিল উদ্দিন আহমেদ; ভৈরব, কিশোরগঞ্জ) : | প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
৪ কিলোমিটার রেলপথে ৬ হাজার স্লীপার ক্ষতিগ্রস্থ

ভৈরব-ঢাকা রেলপথে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকা গামী একটি মালবাহী ট্রেন গতকাল মঙ্গলবার রাতে ভৈরব-জগন্নাথপুর রেলগেইটের পর একটি বগির সামনের দুইটি চাকা রেললাইন থেকে সরে যায়। যা মালবাহী ট্রেনের চালক বুঝতে পারেনি। ট্রেনটি চাঁকা লাইনচ্যুত হওয়ার পর চালক ট্রেনটিকে টেনে নেওয়ার ফলে ভৈরব থেকে নরসিংদী রায়পুরা উপজেলার দৌলতকান্দি রেলস্টেশন পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার রেলপথ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এই ৪ কিলোমিটার রেল পথের রেল লাইন, কাটের স্লীপার ও কংকিটের স্লীপার অংশ বিশেষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ৪ কিলোমিটার পথ ট্রেনটিকে টেনে নিয়ে দৌলতকান্দি স্টেশনে পৌছালে মালবাহী ট্রেনটি আটকে যায়, তখন চালক ট্রেনটিকে থামিয়ে দেন। এসময় ট্রেনটির একটি বগি দুইটি চাঁকা পুরোপুরি লাইনচ্যুত হয়ে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় কর্মকর্তা এ.কে.এম কামরুজ্জামানসহ রেলের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা দুর্ঘটাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

দুর্ঘটনার সময়ে ঘরির কাটা রাত ৮ টা ৪০ মিনিট। তখন থেকে ৩ ঘন্টা আপ লাইনে চট্টগ্রাম-সিলেট ও নোয়াখালী থেকে ঢাকাগামী সকল ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। এতে প্রায় কাটের স্লীপার বেশিরভাগ ভেঙে যায়, কংকিটের স্লীপার সবগুলি ফেটে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এই পথে ব্রহ্মপুত্র নদের উপর একটি সেতু আছে। যেটি নামনগর সেতু নামে পরিচিত। এই সেতুতে সকল কাটের স্লীপার পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়।

লাইনচ্যুতের খবর পেয়ে আখাওরা থেকে উদ্ধারকারী একটি রিলিফ ট্রেন রাত সাড়ে ১২ টাই লাইনচ্যুত দুর্ঘটনারস্থলে পৌছালে, প্রায় ৬ ঘন্টা পর মালবাহী ট্রেনটিকে রাত ৩টাই উদ্ধার করে। তবে রাত ১১টা ৪০ মিনিটে রেললাইনের প্রাথমিক মেরামত শেষে আপলাইনে গতি নিয়ন্ত্রিত ভাবে ট্রেন পরিচালনা করা হয়।

আজ বুধবার দুপুর ১২ টাই ভৈরবের রামনগর ব্রিজ প্রান্তে সরজমিনে গেলে দেখা যায়, রেলপথের ক্ষতিগ্রস্থ অংশ দৃশ্যমান। এই পথে দুর্ঘটনার পর থেকে অর্ধশত শ্রমিক মেরামত কাজে অংশ নিচ্ছে। তবে মেরামত করতে যত দিন শেষ না হয়, ততদিন রেলপথ স্বাভাবিক না হবে, এই সময়ে গতি নিয়ন্ত্রণ ভাবে ট্রেন চালানো হবে। নাম প্রকাশে এক রেল কর্মকর্তা জানান, রেললাইনে প্রতি কিলোমিটারে ১৫শ স্লীপার থাকে। ৪ কিলোমিটারের মধ্যে কাঠের প্রায় সবগুলি স্লীপার পুরোপুরি ভেঙে গেছে। তবে ৪ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্থ হলে ৬ হাজার স্লীপার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে জানান তিনি।

ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মোঃ ইউসুফ বলেন, আপ লাইনে ৩ ঘন্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকলেও ডাউন লাইন থাকায় ট্রেন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটেনি। তবে মালবাহী ট্রেনের চালক ত্রুটি না বুঝার কারণে এমন ক্ষতির কথা মনে করেন বলে জানান তিনি।

পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের নরসিংদী কার্যালয়ের উর্দ্ধতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী জুলহাস হোসেন জানান, আমরা কাটের প্রায় শতাধিক স্লীপার এই সময়ের মধ্যে পরিবর্তন করতে পেরেছি। মেরামতের কাজ চলছে, তবে ৪ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্থ অংশে গতি নিয়ন্ত্রিত ভাবে ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে। মেরামত শেষ হলে স্বাভাবিক গতিতে ট্রেন পরিচালনা করা হবে। তবে ট্রেন চালকের ভুলের কারণে রেলপথ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কি না? তা তদন্তের মাধ্যমে নিরুপণ করতে কাজ চলছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে