দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হতে যাচ্ছে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার মোক্ষপুর ইউনিয়নবাসীর। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পাকাকরণ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটনের উদ্যোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে প্রকল্প দুটির কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুটি সড়কের বিসি কার্পেটিং (পাকাকরণ) কাজে মোট চুক্তিমূল্য প্রায় ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে একটি সড়ক নির্মাণে ব্যয় হবে ১ কোটি ২২ লাখ ১৬ হাজার টাকা এবং অপর সড়কের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৭০ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
প্রথম প্রকল্পে মোক্ষপুর কলেজ থেকে ঢ্যাপপাড়া পাঞ্জেগানা মসজিদ পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০ মিটার সড়ক পাকাকরণ করা হবে। এ কাজে অনুমোদিত ব্যয় ১ কোটি ২২ লাখ ১৬ হাজার টাকা। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি পাকাকরণ হলে মোক্ষপুর কলেজের শিক্ষার্থী-শিক্ষক, স্থানীয় বাসিন্দা ও মসজিদের মুসল্লিদের দীর্ঘদিনের কাদা-পানি ও দুর্ভোগের অবসান হবে।
দ্বিতীয় প্রকল্পে মোক্ষপুর ইউপি শাপখালি বাজার থেকে জাকির ফকিরের ঘাট পর্যন্ত ৫০০ মিটার সড়ক পাকাকরণ করা হবে। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭০ লাখ ৭০ হাজার টাকা। সড়কটি নির্মাণ হলে শাপখালি বাজারে যাতায়াতকারী কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের চলাচল সহজ হবে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য পরিবহন ও বাজারজাতকরণে গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে এসব সড়কের বিভিন্ন অংশে কাদা-পানি জমে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও রোগী বহনকারী যানবাহনকে পর্যন্ত নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। সড়ক দুটি পাকাকরণ হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, এলাকার শিক্ষা, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এর আগে মোক্ষপুর ইউনিয়নে যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন এমপি ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন। তিনি ত্রিশালের সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন এবং মোক্ষপুরে উন্নয়নকাজ উদ্বোধনের সময়ও যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন।
এদিকে প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা এবং নির্মাণকাজে যথাযথ মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল দপ্তর ও তদারকি টিমকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সড়ক দুটি দ্রুত ও মানসম্মতভাবে নির্মাণ শেষ হলে মোক্ষপুর ইউনিয়নের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।
যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে আধুনিক ও সমৃদ্ধ ত্রিশাল গড়ার ধারাবাহিকতায় মোক্ষপুরের এই দুই সড়ক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।