রামগতিতে ভুলুয়া নদীসহ বিভিন্ন খালে অবৈধ জাল উচ্ছেদ অভিযান

এফএনএস (নজরুল ইসলাম; রামগতি, লক্ষ্ণীপুর) : | প্রকাশ: ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
রামগতিতে ভুলুয়া নদীসহ বিভিন্ন খালে অবৈধ জাল উচ্ছেদ অভিযান

লক্ষ্ণীপুরের রামগতিতে ভুলুয়া নদীসহ বিভিন্ন খাল-বিলে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দেশীয় মৎস্য সম্পদ রক্ষায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ। এসময় বিপুল পরিমাণ অবৈধ চায়না দুয়ারী, বেহুন্দী ও লোতা জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। মঙ্গলবার দিনব্যাপী চর বাদাম এলাকার ভুলুয়া নদীসহ আসপাশের খালে প্রায় ৫ পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা যায়, অসাধু মৎস্য শিকারিরা ভুলুয়া নদী ও উপজেলার অভ্যন্তরীণ খালগুলোতে বাঁধ দিয়ে বাধাঁ জাল, বেল জাল, বাঁশের বিন্দি এবং চায়না দুয়ারী বা রিং জাল বসিয়ে পানির স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ ব্যাহত করছিল। এতে বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন এলাকায় কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় এবং দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে। ক্ষতিকর এসব জাল উচ্ছেদে পরিচালনা করা হয়। দিনব্যাপী অভিযানে মেঘনা নদীর শাখা ভুলুয়া নদী ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ খালের বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বেহুন্দী, লোতা এবং ক্ষতিকর চায়না দুয়ারী বা রিং জাল জব্দ কার হয়। পরবর্তীতে জব্দ করা জালগুলো জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এছাড়া মাছ ধরার স্থাপনাসমূহ ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার মো. সৌরভ উজ জামান জানান, মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের অবাধ বিচরণ নিশ্চিত করণ এবং খালে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধে উপজেলা মৎস্য দপ্তরের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে সচেতনতার অভাব এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের গোপন বিক্রির কারণে এর ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। মৎস্য সম্পদ রক্ষায় স্থানীয় জনসাধারণকে অবৈধ পন্থায় জাল ব্যবহার ও মৎস্য আহরণ থেকে বিরত থাকার আহবান জানান। পাশাপাশি স্থানীয় জনসাধারণকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় কিছু ব্যক্তি মাছ ধরার জন্য ভুলুয়া নদীসহ অভ্যন্তরীণ খালগুলোতে বিভিন্ন ধরনের বাঁধ দিয়ে পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি করে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে দেশীয় জাতের মাছ নিধন করছে। এমনকি জলাশয়ের শামুক, ঝিনুক, কাঁকড়া, সাপ, ব্যাঙ, কুঁচে ও অন্যান্য জলজ প্রাণিও এই জালে আটকে মারা যাচ্ছে এতে জীববৈচিত্র্য ও মৎস্য সম্পদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি কারণে এ অঞ্চলের কয়েকটি গ্রাম বর্ষা আসলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে